শরতের সাদা কাশফুলে বদলে গেছে সিলেটের জাফলংয়ের চেনা দৃশ্য। বর্ষার পানি কমে পিয়াইন নদে জেগে উঠেছে বালু-পাথরের বিস্তীর্ণ চর। সেই পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা কাশফুল আর পেছনের সবুজ পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন এক আকর্ষণ।
সিলেটের জাফলংয়ে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে ঋতুভেদে এখানকার প্রকৃতিতে আসে ভিন্নতা। বর্ষায় পিয়াইন নদ পানিতে ভরে উঠলেও শরতে পানি কমে নদীর পাথুরে তলদেশের বড় একটি অংশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
জেগে ওঠা পাথর আর বালুর প্রান্তরের মাঝে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল শরতের আবহকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাহাড়ের সবুজ পটভূমি, স্বচ্ছ জল, পাথর আর কাশফুল মিলে জাফলংয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী প্রাকৃতিক দৃশ্য।
পানি কমে যাওয়ায় পিয়াইন নদীর কিছু অংশ সরু খালের মতো দেখাচ্ছে। কোথাও পাথরের স্তূপ, আবার কোথাও নদীর স্বচ্ছ জলে নৌকা চলছে। চর ধরে হাঁটছেন পর্যটকেরা। নদীর পাথুরে অংশেও অনেককে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে।
শরতে নদীর পানি কমে যাওয়ায় কিছু জায়গায় অস্থায়ী দোকানপাটও বসেছে। ফলে প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা নদীর পাড়ে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
জাফলংয়ের ঝরনাগুলোর সৌন্দর্য সাধারণত বর্ষায় বেশি দেখা যায়। শরতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মায়াবী ঝরনায় পানি না থাকলেও পর্যটকদের আগ্রহ কমেনি। জাফলংয়ের পাহাড়, নদী, পাথর ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন।
শরৎকালে জাফলং ভ্রমণে গেলে নদীর পানির গভীরতা ও পাথুরে এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর পাথর সংরক্ষণেও পর্যটকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।