শাড়ি কেনা যদি শুধু বাজারে গিয়ে পছন্দের পোশাক বেছে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন তাঁতপল্লি হতে পারে ভিন্নধর্মী ভ্রমণ গন্তব্য। তাঁতিদের বাড়িতে শাড়ি তৈরির কাজ দেখা, স্থানীয় বাজার ঘোরা, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সরাসরি কারিগরের কাছ থেকে শাড়ি কেনার সুযোগ মিলবে একই সফরে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁত ও বয়নশৈলীর বৈচিত্র্যও এই ভ্রমণকে করে তুলতে পারে আরও আকর্ষণীয়।
শান্তিনিকেতন, কাঁথার কাজ ও লোকসংস্কৃতির টানে
শান্তিনিকেতন শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। সোনাঝুরি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁথার কাজের শাড়ি, বাটিক, খেস ও নানা হস্তশিল্প পাওয়া যায়। কেনাকাটার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, সোনাঝুরি এলাকা ও আশপাশের গ্রাম ঘুরে দেখা যায়।
কলকাতা থেকে সড়কপথে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় শান্তিনিকেতন পৌঁছানো যায়। হাওড়া থেকেও ট্রেনে যাওয়া সম্ভব।
মুর্শিদাবাদ, রেশম ও বালুচরীর সঙ্গে ইতিহাস
রেশম ও বালুচরীর প্রতি আগ্রহ থাকলে মুর্শিদাবাদের তাঁতপাড়া ঘুরে দেখতে পারেন। সরাসরি তাঁতিদের এলাকায় গেলে শাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি রেশম, বালুচরীসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কেনা যায়। মুর্শিদাবাদ রেশম উৎপাদন ও বয়নশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
সফরে যুক্ত করা যায় হাজারদুয়ারি প্রাসাদসহ নবাবি আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা। ফলে দুই দিনের ভ্রমণে কেনাকাটা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য দুটিই দেখা সম্ভব।
বিষ্ণুপুরে বালুচরী ও টেরাকোটার ঐতিহ্য
বালুচরী শাড়ির পাশাপাশি টেরাকোটার মন্দিরের জন্যও বিখ্যাত বিষ্ণুপুর। এখানকার শাড়িতে পৌরাণিক কাহিনি ও ঐতিহ্যবাহী নানা দৃশ্যের নকশা দেখা যায়।
শাড়ি কেনার পর ঘুরে দেখতে পারেন রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা, শ্যামরাই ও মদনমোহন মন্দির। হাওড়া থেকে ট্রেনে বিষ্ণুপুর যাওয়া যায়।
ধনেখালি, তাঁতবাড়ির কাছাকাছি
হুগলির ধনেখালি নিজস্ব তাঁতের শাড়ির জন্য পরিচিত। মদনমোহনতলা, সোমাসপুরসহ আশপাশের এলাকায় তাঁতিদের বাড়িতে গিয়ে বয়নকাজ দেখার সুযোগ রয়েছে। শাড়ির পাশাপাশি কাছাকাছি দশঘরার পুরোনো জমিদারবাড়িও দেখা যেতে পারে।
ফুলিয়া, তাঁত ও জামদানির খোঁজে
নদিয়ার ফুলিয়া ও কাছের শান্তিপুর দীর্ঘদিন ধরে তাঁতের শাড়ির জন্য পরিচিত। ফুলিয়ায় টাঙ্গাইলধারার তাঁত, রেশম, তসর ও জামদানি পাওয়া যায়। শান্তিপুরের তাঁতশিল্পও ঐতিহ্যবাহী।
ফুলিয়ার কবি কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘুরে কাছের শান্তিপুরে গিয়ে পুরোনো মন্দির ও গঙ্গার পাড়ও দেখা যায়। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে ফুলিয়া যাওয়া সম্ভব।