ভ্রমণে এখন আর সাধারণ হোটেল বা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না অনেক পর্যটক। কেউ থাকতে চান গুহায়, কেউ দুর্গে, আবার কেউ গাছের ওপরের ঘর কিংবা পানির ওপর ভাসমান বাড়িতে। এমন ব্যতিক্রমী থাকার জায়গার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্রান্স।

হোলাফ্লাইয়ের তৈরি নতুন এক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তালিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে আট ধরনের অস্বাভাবিক থাকার জায়গা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—গুহা, দুর্গ, ট্রিহাউস, হাউসবোট, উইন্ডমিল, বাতিঘর, মাটির তৈরি বাড়ি এবং গম্বুজাকৃতির আবাসন। খবর: ইউরো নিউজ

প্রতিটি দেশে এসব ধরনের থাকার জায়গার সংখ্যা যোগ করে র‍্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৪৭টি তালিকা নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা দেশগুলোর একটি ফ্রান্স বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতেও এগিয়ে রয়েছে। সেখানে বুক করা যায় ১ হাজারের বেশি দুর্গ, ৪০০টির বেশি হাউসবোট এবং প্রায় ৩০টি উইন্ডমিল।

ইউরোপে আর কোথায় মিলবে অদ্ভুত থাকার অভিজ্ঞতা?

ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সের পর ব্যতিক্রমী থাকার জায়গার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ইতালি। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দেশটিতে রয়েছে টাসকানির দুর্গ, পুগলিয়ার বিখ্যাত শঙ্কু আকৃতির পাথরের বাড়ি ‘ট্রুলি’ এবং মাতেরার ঐতিহাসিক গুহাবাস।

এরপর ইউরোপের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্য। ৬৯৬টি তালিকা নিয়ে দেশটি বিশ্বে ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্যে রয়েছে প্রায় ২৫০টি দুর্গ, প্রায় ১৫০টি গম্বুজাকৃতির থাকার জায়গা এবং ১০০টির বেশি হাউসবোট। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য ২৩টি বাতিঘর ও ১২টি উইন্ডমিলেও থাকার সুযোগ রয়েছে।

ইউরোপের আরেকটি দেশ গ্রিস রয়েছে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের নবম অবস্থানে। দেশটির বিশেষত্ব গুহায় থাকার ক্ষেত্রে। গ্রিসে রয়েছে ২৭৯টি গুহা-আবাসন, যা এই ক্যাটাগরিতে তালিকার শীর্ষে। উইন্ডমিলে থাকার ক্ষেত্রেও ২৭টি তালিকা নিয়ে দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অদ্ভুত থাকার জায়গার শীর্ষ ১০ দেশ

১. ফ্রান্স — ২,৯৪৭টি
২. যুক্তরাষ্ট্র — ২,৫৩৩টি
৩. ইতালি — ১,০৫০টি
৪. ব্রাজিল — ৮৭৩টি
৫. কলম্বিয়া — ৭৬২টি
৬. যুক্তরাজ্য — ৬৯৬টি
৭. মেক্সিকো — ৬৭৫টি
৮. ভারত — ৬০৪টি
৯. গ্রিস — ৫৯৯টি
১০. চিলি — ৫৪৮টি

র‍্যাঙ্কিংটি দেখাচ্ছে, পর্যটকদের থাকার অভিজ্ঞতাও এখন ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে। প্রচলিত হোটেলের বদলে ইতিহাস, প্রকৃতি ও স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যতিক্রমী আবাসন বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।