ঢাকার ব্যস্ততা থেকে স্বল্প সময়ে প্রকৃতি ও স্থাপত্যের স্বাদ নিতে চাইলে যমুনা সেতু ও এর আশপাশ হতে পারে সহজ একটি গন্তব্য। প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা বহুমুখী সেতু দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যমুনার বিশাল জলরাশির ওপর দৃষ্টিনন্দন একটি ভ্রমণ আকর্ষণ। পশ্চিম প্রান্তের সবুজ ইকো পার্ক, নদীর পাড় ও সূর্যাস্ত মিলিয়ে এখানে দুই থেকে তিন ঘণ্টার ছোট ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যায়।

যমুনা সেতু

দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগে যুক্ত করার পাশাপাশি রেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপানের সহায়তায় নির্মিত সেতুটি ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকালীন সময়ে এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু।

সেতুটি চালুর সময় দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি ছিল। সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন বহনের কারণে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।

ভারী ও দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের সুবিধার জন্য পরে এর পাশে পৃথক যমুনা রেলসেতু নির্মাণ করা হয়, যা ২০২৫ সালে চালু হয়।

কী দেখবেন ও করবেন

যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের ইকো পার্কে নদীর পাড়ে সময় কাটানো যায়। বিকেলের দিকে গেলে সূর্যাস্তের সময় যমুনার ওপর সেতুর দীর্ঘ কাঠামোর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সুযোগ থাকলে স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া করে যমুনার চরাঞ্চলেও ঘুরে আসা যায়। তবে নৌভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, নদীর স্রোত ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। সড়কপথে সাধারণত ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

মহাখালী বা গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসে সিরাজগঞ্জ রোড বা সিরাজগঞ্জ শহরে যাওয়া যায়। ভাড়া আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সিরাজগঞ্জ রোড থেকে স্থানীয় যানবাহনে ইকো পার্কের দিকে যাওয়া যায়।

রেলপথে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে জামতৈল বা সিরাজগঞ্জ এলাকায় নেমে স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করা যায়।

কোথায় থাকবেন, কী খাবেন

রাতযাপনের প্রয়োজন হলে যমুনা রিসোর্ট, টাঙ্গাইল, সেতুর পূর্ব প্রান্তের একটি বিকল্প। স্থানীয় খাবারের মধ্যে সিরাজগঞ্জের দই ও ঘি এবং যমুনার মাছ উল্লেখযোগ্য।

কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান

সময় থাকলে হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির, সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ড পয়েন্ট এবং শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি ঘুরে দেখা যেতে পারে। হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির আঠারো শতকের নয় চূড়ার টেরাকোটা মন্দির। রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি কাছারিবাড়ি, যা বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভ্রমণ তথ্য: অক্টোবর থেকে মার্চ ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক সময়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় রাখলে নদী, সেতু ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। সেতুর ওপর গাড়ি থামানো নিষেধ।