ইংল্যান্ড ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুখবর। দেশটির জাতীয় জাদুঘরগুলোর স্থায়ী সংগ্রহ দেখতে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হবে না। কয়েক মাসের আলোচনা ও পর্যালোচনার পর সবার জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের নীতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইংল্যান্ড সরকার।
ইংল্যান্ডের ১৫টি জাতীয় জাদুঘর ও গ্যালারিতে ২০০১ সাল থেকে স্থায়ী সংগ্রহ দেখার জন্য প্রবেশমূল্য নেওয়া হয় না। বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা ফি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি সরকার, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ, পর্যটন খাত ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশমূল্য নেওয়া হলে জাদুঘরগুলোর আয় বাড়তে পারে, এমন যুক্তি ছিল। নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো কিছু দেশে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য থাকলেও নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ইংল্যান্ড সরকার মনে করেছে, বিদেশিদের জন্য প্রবেশমূল্য চালু করলে দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শনার্থীরাও জাদুঘরে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে ফি চালুর সুফল সব জাদুঘরে সমানভাবে পৌঁছাবে না। তাই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্যও বিনামূল্যে প্রবেশের নীতি বহাল রাখা হয়েছে।
জাতীয় জাদুঘরগুলোর পর্যটন গুরুত্বও বড়। ২০২৫ সালে লন্ডনের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে প্রায় ৭১ লাখ এবং ব্রিটিশ জাদুঘরে প্রায় ৬৪ লাখ দর্শনার্থী গেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি জাতীয় জাদুঘর ও গ্যালারিতে মোট দর্শনার্থী ছিল প্রায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি অবদান রাখে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, জাদুঘরগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। ব্রিটিশ জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাস কুলিনানও বিনামূল্যে প্রবেশের নীতি বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১৭৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ব্রিটিশ জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
প্রবেশমূল্য না থাকলেও জাদুঘরগুলো বিশেষ প্রদর্শনী, সদস্যপদ, উপহারের দোকান, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সেবার মাধ্যমে নিজস্ব আয় করে। ফলে পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে স্থায়ী সংগ্রহ দেখার সুযোগ থাকলেও বিশেষ প্রদর্শনী বা কিছু আয়োজনের জন্য আলাদা টিকিট প্রয়োজন হতে পারে।