উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল থেকে পাহাড়ি পথে এগোলেই দেখা মেলে সবুজ পাহাড়, জঙ্গল ও নদীঘেরা কৈঞ্চি ধামের। নিম করোলি বাবাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই আশ্রম এখন শুধু আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান নয়, বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের সফরের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
স্টিভ জবস, মার্ক জাকারবার্গ, ল্যারি পেজ, জেফরি স্কল ও চিকিৎসক ল্যারি ব্রিলিয়ান্টের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে কৈঞ্চি ধামের নাম জড়িয়ে আছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার সফরের পর ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যেও জায়গাটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।
স্টিভ জবসের ভারত-সন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা
১৯৭৪ সালে ১৯ বছর বয়সে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে ভারতে এসেছিলেন স্টিভ জবস। নিম করোলি বাবার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যেই তিনি কৈঞ্চি ধামে পৌঁছান। তবে ততদিনে ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিম করোলি বাবা মারা গিয়েছিলেন।
ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের লেখা জবসের জীবনীতে তাঁর ভারত সফর ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এই সফর পরবর্তী জীবনে তাঁর চিন্তাভাবনা ও দর্শনে প্রভাব ফেলেছিল বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উঠে এসেছে।
জাকারবার্গ, ল্যারি পেজরাও এসেছেন
২০১৫ সালে মার্ক জাকারবার্গ ভারত সফরের সময় কৈঞ্চি ধামে যান। জানা যায়, স্টিভ জবসই তাঁকে এই আশ্রমে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে জাকারবার্গ বলেন, সফরটি তাঁকে ফেসবুকের শুরুর উদ্দেশ্য ও দর্শনের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হতে সাহায্য করেছিল।
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, ইবের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফরি স্কল এবং চিকিৎসক ল্যারি ব্রিলিয়ান্টও কৈঞ্চি ধামে এসেছেন। ব্রিলিয়ান্ট একসময় আশ্রমে বসবাসও করেছিলেন।
কেন পর্যটকদের আকর্ষণ করে?
কৈঞ্চি ধামের আকর্ষণ শুধু তারকা বা প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সফরে সীমাবদ্ধ নয়। নিম করোলি বাবার ভালোবাসা, সেবা ও মানবকল্যাণের শিক্ষার সঙ্গে আশ্রমটির পরিচিতি জড়িয়ে আছে। পাহাড়, বন ও নদীঘেরা শান্ত পরিবেশও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
কীভাবে যাবেন?
কৈঞ্চি ধাম নৈনিতাল থেকে সড়কপথে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে। কাঠগোদাম রেলস্টেশন প্রায় ৩৭ কিলোমিটার এবং পন্তনগর বিমানবন্দর প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে। নৈনিতাল, হালদোয়ানি বা কাঠগোদাম থেকে সড়কপথে যাওয়া যায়।
প্রতি বছর ১৫ জুনের ভাণ্ডারায় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ফলে তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে এই সময়টি এড়িয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ভালো।
ভ্রমণ তথ্য: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের একটি হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, আশ্রমে সকাল ও বিকেলে দর্শনের সময় নির্ধারিত রয়েছে। সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।