দুর্গাপূজার ছুটিতে শুধু কেনাকাটা নয়, ইতিহাস, স্থাপত্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চাইলে দক্ষিণ ভারতের কাঞ্চীপুরম হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। তামিলনাড়ুর এই প্রাচীন শহর একদিকে বিখ্যাত কাঞ্জিভরম রেশমশাড়ির জন্য, অন্যদিকে প্রাচীন মন্দির ও দ্রাবিড় স্থাপত্যের জন্য। চেন্নাইয়ের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটি ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহজেই যুক্ত করা যায়।

শাড়ির শহরে তাঁতশিল্পের গল্প

কাঞ্চীপুরমের রেশমশাড়ির ঐতিহ্য বহু পুরোনো। এখানকার কাঞ্জীপুরম সিল্ক ভারতের নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। ফলে আসল কাঞ্জীপুরম রেশম কেনার ক্ষেত্রে জিআইসহ স্বীকৃত চিহ্ন, রেশমের মান ও বুনন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

শহরের পিল্লাইয়ারপালায়াম এলাকায় তাঁতিদের কাজ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। সরাসরি তাঁতশিল্পীদের কাছ থেকে শাড়ি কেনার সুযোগও থাকতে পারে। শহরের বিভিন্ন রেশম বিপণিতেও কাঞ্জিভরম শাড়ি পাওয়া যায়।

মন্দিরে মন্দিরে প্রাচীন স্থাপত্য

কাঞ্চীপুরমের অন্যতম আকর্ষণ একাম্বরেশ্বর মন্দির। বিশাল মন্দির প্রাঙ্গণ, দীর্ঘ স্তম্ভশোভিত মণ্ডপ এবং উঁচু গোপুরম দ্রাবিড় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। মন্দিরটির বর্তমান স্থাপত্যে পল্লব, চোল ও বিজয়নগর আমলের অবদান রয়েছে।

অষ্টম শতকের কৈলাসনাথ মন্দিরও অবশ্যই দেখার মতো। পল্লব আমলের এই মন্দিরের বেলেপাথরের ভাস্কর্য ও স্থাপত্য কাঞ্চীপুরমের প্রাচীন শিল্পধারার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

এ ছাড়া শক্তি আরাধনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কামাক্ষী অম্মান মন্দির এবং বিষ্ণুর উদ্দেশে নির্মিত বরদরাজ পেরুমল মন্দিরও ভ্রমণসূচিতে রাখা যায়। মন্দিরভেদে দর্শনের সময় আলাদা এবং কিছু মন্দিরে দুপুরে বিরতি থাকে। তাই যাওয়ার আগে সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।

খাবারেও দক্ষিণ ভারতের স্বাদ

ভ্রমণের ফাঁকে কলাপাতায় পরিবেশিত দক্ষিণ ভারতীয় নিরামিষ খাবার এবং স্থানীয় কাঞ্চীপুরম ইডলি চেখে দেখা যেতে পারে। এতে মন্দির, তাঁতশিল্প ও স্থাপত্যের পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়া যাবে।

চেন্নাই থেকে সড়ক ও রেলপথে কাঞ্চীপুরম যাওয়া যায়। কাঞ্চীপুরমের নিকটতম প্রধান বিমানবন্দর চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সময় হাতে থাকলে চেন্নাই, মহাবলীপুরম ও কাঞ্চীপুরম মিলিয়ে ভ্রমণসূচি করা যায়।