বার্সেলোনায় অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্প্রতি স্থানীয়রা পর্যটকদের দিকে প্লাস্টিকের পানির পিস্তল ছুড়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যটকের বার্সেলোনায় পা পড়ে, যা শহরটির স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। পর্যটকের চাপ কমাতে শহরটি ইতোমধ্যে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছ।

২০১৫ সাল থেকে শহরের কেন্দ্রে নতুন হোটেল নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ১০ হাজার স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে ক্রুজ জাহাজের টার্মিনাল সাতটি থেকে কমিয়ে পাঁচটি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া প্রতি রাতে সর্বোচ্চ ১২ ইউরো পর্যন্ত পর্যটন কর নেওয়া হয়, যা ইউরোপের অন্যতম বেশি। ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১৫ ইউরো করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবার পর্যটন নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিয়েছে বার্সেলোনার পর্যটন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘ভিজিট’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘দিস ইজ বার্সেলোনা’। 
নতুন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হচ্ছে নেটফ্লিক্সের মতো অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর আচরণ ও আগ্রহ বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিটি ঠিক করবে কোন তথ্য আগে দেখানো হবে এবং কোন জায়গা বা কার্যক্রম পর্যটকের জন্য উপযোগী হতে পারে।

শুধু পর্যটকের আগ্রহ নয়, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে শহরের কোন এলাকায় কতটা পর্যটকের চাপ রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে ভিড় বেশি থাকা জায়গার পরিবর্তে তুলনামূলক কম পরিচিত এলাকায় পর্যটকদের পাঠানো সম্ভব হবে।
বার্সেলোনা পর্যটন বোর্ড বলছে, তারা এমন পর্যটক আকৃষ্ট করতে চায় যারা সংস্কৃতি, মানসম্মত অভিজ্ঞতা, সম্মান ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেন। অর্থাৎ শুধু জনপ্রিয় জায়গায় গিয়ে ছবি তুলে চলে যাওয়া পর্যটনের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটে জাদুঘর, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও বার এবং ধ্রুপদি সংগীতের মতো আয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের স্থানীয় রীতিনীতি ও আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, সাগ্রাদা ফামিলিয়ার মতো অতিরিক্ত জনপ্রিয় স্থানকে তালিকার শুরুতে না রেখে কয়েক পৃষ্ঠা নিচে রাখা হয়েছে। বরং কম পরিচিত জায়গাগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে।
পর্যটন বোর্ডের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল ভিডিও অনেক সময় শহরের একটি নির্দিষ্ট ছবি তৈরি করে দেয় এবং হাজার হাজার মানুষ একই জায়গায় ছুটে যান। তাই তাদের পরামর্শ—শুধু একটি জনপ্রিয় স্থানের জন্য নয়, বরং কনসার্ট, প্রদর্শনী বা স্থানীয় রেস্তোরাঁর মতো বিশেষ অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে বার্সেলোনা ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।