যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নির্বাহী, উদ্যোক্তা ও উচ্চপর্যায়ের পেশাজীবীদের মধ্যে ইবোগেইন নামে একটি শক্তিশালী সাইকেডেলিক পদার্থ ব্যবহার করে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এজন্য কেউ কেউ মেক্সিকো ভ্রমণ করছেন এবং একটি চিকিৎসা বা রিট্রিটের পেছনে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইবোগেইন মূলত আসক্তি থেকে মুক্তি, মানসিকভাবে নতুন করে শুরু করা এবং কর্মক্ষমতা বাড়ানোর মতো উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত না হওয়ায় কিছু মার্কিন নাগরিক মেক্সিকোতে যাচ্ছেন।
মেক্সিকোর প্লায়া দেল কারমেনের একটি ইবোগেইন ক্লিনিক রোগীদের বিমানবন্দর থেকে আনা, থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত সহযোগিতা করে। ক্যানকুনের Beond Ibogaine-এর মতো কিছু প্রতিষ্ঠান চিকিৎসার পাশাপাশি আবাসন, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, ম্যাসাজ ও পরবর্তী কাউন্সেলিংয়ের মতো সুবিধা দিচ্ছে।
তবে ইবোগেইনের ঝুঁকি নিয়েও গুরুতর সতর্কতা রয়েছে। এর প্রভাব ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে এবং এটি হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হৃদ্যন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইবোগেইন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় সিন্ডি ক্রফোর্ডের ২৭ বছর বয়সী ছেলে প্রেসলি গারবারের মৃত্যুর পর। তিনি আসক্তির সমস্যার মধ্যে মেক্সিকোতে গিয়ে উচ্চমাত্রার ইবোগেইন চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং মস্তিষ্ককে ‘রিওয়্যার’ বা নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন।
আসক্তি বিশেষজ্ঞ ডা. ড্রু পিনস্কি ইবোগেইন বা অন্য সাইকেডেলিক চিকিৎসাকে মাদকাসক্তির নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, কিছু ক্লিনিক ইবোগেইনকে শুধু আসক্তির চিকিৎসা হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত উন্নয়ন, কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং মানসিক পুনরুদ্ধারের উপায় হিসেবেও প্রচার করছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বিয়োন্ডে নামে একটি প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা ও অবস্থানের খরচ ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত। স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আসা ব্যক্তিরা সাধারণত প্রায় ১০ দিন সেখানে থাকেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস মেক্সিকোতে অন্তত ৪০টি ইবোগেইন ক্লিনিক ও ওয়েলনেস সেন্টার শনাক্ত করেছে। এক দশক আগেও এমন প্রতিষ্ঠান প্রায় ছিল না বললেই চলে। এসব জায়গায় চিকিৎসার খরচ প্রায় ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা-সুবিধা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা একরকম নয়।