সমুদ্রসৈকতে সাধারণত হাঁটা, সাগরের ঢেউ দেখা কিংবা সূর্যাস্ত উপভোগ করাই পরিচিত অভিজ্ঞতা। কিন্তু ভারতের কেরালার মুঝাপ্পিলাঙ্গাড সৈকতে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন এক আকর্ষণ। শক্ত বালুর ওপর দিয়ে সমুদ্রের একেবারে কাছাকাছি গাড়ি চালিয়ে ঘুরে দেখা যায় এই সৈকত। কেরালা পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত এশিয়ার দীর্ঘতম গাড়ি চালানোর উপযোগী সৈকত হিসেবে পরিচিত।
কোথায় মুঝাপ্পিলাঙ্গাড সৈকত
মুঝাপ্পিলাঙ্গাড উত্তর কেরালার কান্নুর জেলায়, থালাসেরি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মালাবার উপকূলের এই সৈকতের শক্ত ও সমতল বালু গাড়ি চালানোর জন্য উপযোগী। কেরালা পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো সৈকতজুড়েই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানো যায়।
সৈকতের পাশে থাকা কালো পাথরের প্রাকৃতিক বলয় সমুদ্রের প্রবল স্রোত কিছুটা প্রতিহত করে। ফলে এখানে তুলনামূলক শান্ত ও অগভীর পানির দেখা মেলে। শীতকালে ৩০টির বেশি প্রজাতির পরিযায়ী পাখিও এ এলাকায় আসে।
শুধু গাড়ি চালানো নয়
মুঝাপ্পিলাঙ্গাডে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সাঁতার, জলক্রীড়া, নৌভ্রমণ, প্যারাসেইলিং ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। সূর্যাস্তের দৃশ্যও এই সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোতে মালাবার অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
সৈকতের কাছেই রয়েছে ধামরাদম দ্বীপ। জোয়ার-ভাটার অবস্থা অনুকূলে থাকলে দ্বীপটির কাছাকাছি যাওয়া যায়। তবে দ্বীপটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সেখানে প্রবেশের জন্য আগাম অনুমতির প্রয়োজন।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য
কেরালা ভ্রমণে কান্নুর ও থালাসেরি ঘুরতে গেলে মুঝাপ্পিলাঙ্গাডকে ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে প্রচলিত শহরভিত্তিক পর্যটনের বাইরে উপকূল, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভিন্নধর্মী সমুদ্রভ্রমণের অভিজ্ঞতা চাইলে জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে সৈকতে গাড়ি চালানোর আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, জোয়ার-ভাটার সময় এবং নিরাপত্তাবিধি জেনে নেওয়া জরুরি। কেরালা পর্যটনও গাড়ি চালানোর জন্য ভাটার সময়কে উপযোগী বলে উল্লেখ করেছে।