মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানের ৯৩ শতাংশ ভূখণ্ডই পাহাড়ি। পামির ও অন্যান্য পর্বতমালায় ঘেরা দেশটিতে রয়েছে উঁচু পাহাড়, নীল ও ফিরোজা রঙের হ্রদ, দুর্গম গ্রাম এবং প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহ্য। তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এই গন্তব্য ঘুরে এক ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে দেশটির প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি অঙ্কিতা কুমার তাজিকিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। তাঁর প্রকাশিত ভিডিও ও বর্ণনায় দেশটির পাহাড়ি ভূদৃশ্য, নীল পানির হ্রদ, গ্রামীণ জীবন এবং স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
অঙ্কিতার মতে, পর্যটকের তুলনামূলক কম উপস্থিতিই তাজিকিস্তানের অন্যতম আকর্ষণ। তাঁর ভাষায়, “এটি বিশ্বের সবচেয়ে উপেক্ষিত দেশ।” তিনি আরও বলেন, “প্রতি ১০ মিনিট পরপরই প্রকৃতির রং বদলে যায়। প্রতিটি বাঁকেই মনে হয় যেন নতুন কোনও দেশে এসে পড়েছি।”
পাহাড় ও হ্রদের দেশ
তাজিকিস্তানের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ ভূখণ্ড পাহাড়ে আচ্ছাদিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৩০০ মিটার থেকে ৭ হাজার ৪৯৫ মিটার পর্যন্ত। পামির, হিসার-আলাই ও তিয়ান শান পর্বতমালার কারণে দেশটি পাহাড়ি ভ্রমণ, পদযাত্রা, পর্বতারোহণ ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের জন্য পরিচিত।
দেশটিতে প্রায় ২ হাজার হ্রদ, প্রায় ১ হাজার নদী এবং ৮ হাজার হিমবাহ রয়েছে বলে তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ইস্কান্দারকুল, কারাকুল ও সারেজ হ্রদসহ বিভিন্ন উচ্চভূমির জলাধার পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতাও অঙ্কিতার ভ্রমণ অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাহাড়ি জনপদ ও স্থানীয় বাজারে তিনি মানুষের সহযোগিতা এবং আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। চা দিয়ে আপ্যায়নসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে জানিয়েছেন।
তবে ধর্মীয় পরিবেশ, নিরাপত্তা বা সামাজিক জীবন নিয়ে তাঁর করা কিছু মন্তব্য ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হিসেবে এসেছে। সেগুলোকে পুরো দেশের সামগ্রিক বাস্তবতার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়।
দুশানবে থেকে পাহাড়ি জনপদ
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে দেশটির নগর ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জাতীয় জাদুঘর, রুদাকি উদ্যান, ইস্তিকলল চত্বর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনা শহরটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
তাজিকিস্তানের পর্যটন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাহাড়ি, পরিবেশবান্ধব, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটি সিল্ক রোডের ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত এবং সারাজমসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
ভ্রমণ তথ্য: তাজিকিস্তানের সরকারি কনস্যুলার তথ্য অনুযায়ী, ১৪০ দেশের নাগরিক অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন করতে পারেন। তবে ভ্রমণের আগে নিজের দেশের জন্য বর্তমান ভিসা ও সীমান্তসংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করা জরুরি।