কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলুক বা না মিলুক, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণ কমছে না। শীতের পর্যটন মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটছেন সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে তেঁতুলিয়ার প্রাণকেন্দ্রে শতবর্ষী ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছ, স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘তেঁতুলতলা’। রাতের বর্ণিল আলোকসজ্জায় গাছটি পরিণত হয়েছে নতুন এক পর্যটন আকর্ষণে।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগই পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পঞ্চগড়ের সরকারি পর্যটন গাইডেও তেঁতুলিয়াকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অন্যতম স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে এ অঞ্চলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযোগী সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে গত এক সপ্তাহ ধরে মেঘের কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। ভোর থেকে ডাকবাংলোসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে অপেক্ষা করেও অনেক পর্যটক পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে পারেননি। তবু চা বাগান, সীমান্ত এলাকা, মহানন্দা নদী ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে তাদের ভ্রমণ পূর্ণতা পাচ্ছে।

তেঁতুলিয়ার পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহানন্দা নদী, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, রকস মিউজিয়াম, ইকো পার্ক, মহারাজার দিঘী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বারো আউলিয়ার মাজার। পঞ্চগড়ের সরকারি পর্যটন গাইডেও এসব স্থানের তালিকা রয়েছে। 

এর মধ্যে সম্প্রতি পর্যটকদের নজর কেড়েছে চৌরাস্তা বাজারের শতবর্ষী তেঁতুল গাছটি। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের উদ্যোগে গাছটির চারপাশ পরিষ্কার করে রাতে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোর ঝলমলে সাজে গাছটি দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এর ছবি।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নাফিজ আনম বলেন, তেঁতুলতলার দুধ চা, খাবারের দোকান এবং রাতের পরিবেশ অন্য রকম অনুভূতি তৈরি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন রাব্বি নওশাদ বলেন, আগে তেঁতুলিয়ায় এলেও এবার জায়গাটিকে অনেক বেশি সাজানো ও প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও চা বাগান, সীমান্ত এলাকা ও অন্যান্য স্থান ঘুরে আনন্দ পেয়েছেন।

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক সুমনা জামানও রাতে আলোকসজ্জায় তেঁতুল গাছটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন।

তেঁতুলিয়ার নর্থবাংলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের পরিচালক আহসান হাবিব বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত ঐতিহাসিক গাছটিকে নতুন সাজে তুলে ধরার উদ্যোগ পর্যটনের জন্য ইতিবাচক।

জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন জানান, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছ এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। পর্যটকদের জন্য তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার ও মহানন্দা পার্কও সাজানো হচ্ছে। মহানন্দা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এবং শিশুদের জন্য আলাদা পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।