দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুসানের একটি সরু জলপথে আটকা পড়া সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ এক হাঙর এখন শহরের অপ্রত্যাশিত পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ‘বুকাং-ই’ নামে পরিচিত হাঙরটিকে দেখতে নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে ১০ দিনে ৬ লাখের বেশি মানুষ ভিড় করেছেন। 

১৮ সেপ্টেম্বর নর্থ পোর্টের একটি সরু খালে প্রথম হাঙরটিকে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিকারের পিছু নিতে গিয়ে এটি সমুদ্র থেকে জলপথে ঢুকে পড়ে এবং পরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি। পর্যবেক্ষণের পর এটিকে সম্ভবত ব্রোঞ্জ হুইলার প্রজাতির হাঙর হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 

প্রথম দফায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্ট গার্ড হাঙরটিকে সমুদ্রে ফেরানোর চেষ্টা করলেও বিজ্ঞানীদের সতর্কতায় অভিযান স্থগিত করা হয়। জোর করে সরানোর চেষ্টা করলে হাঙরটি আহত হতে পারে বা আত্মরক্ষামূলক আচরণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

২৯ সেপ্টেম্বর নৌযান ও পানির প্রবল ধারা ব্যবহার করে আবারও হাঙরটিকে খালের মুখের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাঙরটি নৌযান এড়িয়ে আবার জলপথের ভেতরে ফিরে যায়। পরবর্তী সময়ে জাল ব্যবহার করে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

বুসান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার বার দর্শনার্থীর উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে। সাধারণ ছুটির দিনে যেখানে পার্কটিতে প্রায় ২ হাজার মানুষ আসেন, হাঙরটিকে ঘিরে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।

হাঙরটির প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহ এতটাই বেড়েছে যে বুসান শহর কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক প্রচারদূত ঘোষণা করেছে। প্রায় ৮ হাজার ২০০ মানুষের অংশ নেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জরিপে ৯১ শতাংশ এ সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন। হাঙরটির নামের সঙ্গে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ শব্দ মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘শার্কফ্লুয়েন্সার’ উপাধিও। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাঙরটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘ সময় সীমিত জলপথে থাকলে চলাচল ও খাবার সংগ্রহের সুযোগ কমে গিয়ে প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই দর্শনার্থীদের পানির খুব কাছে না যাওয়া এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।