ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ভ্রমণকারী যাত্রীরা শিগগিরই অতিরিক্ত টাকা না দিয়েই আরও বেশি কেবিন ব্যাগেজ বহনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। তবে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা ব্রিটিশ যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়মের এ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইইউভুক্ত দেশগুলো গত জুনে নতুন বিমানযাত্রী অধিকারবিষয়ক নিয়ম নিয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছেছে। ২০০৪ সালের পর যাত্রী অধিকারসংক্রান্ত আইনে এটিই হবে প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন। খবর: ইউরো নিউজ।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্ট্যান্ডার্ড টিকিট কিনলেই যাত্রীরা বিনা খরচে দুটি হ্যান্ড লাগেজ বহনের অধিকার পাবেন। এর মধ্যে থাকবে একটি ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ, যেমন হ্যান্ডব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক, যা সামনের আসনের নিচে রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৭ কেজি ওজনের একটি বড় কেবিন ব্যাগ নিতে পারবেন। ব্যাগটির মোট দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার যোগফল হতে হবে সর্বোচ্চ ১০০ সেন্টিমিটার।

নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের শেষ দিকের আগে কার্যকর হওয়ার কথা নয়। বর্তমানে অক্টোবর ২০২৭-কে সম্ভাব্য সবচেয়ে আগের সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে ইইউর আইন প্রণয়নের বাকি প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে হবে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জানিয়েছে, নতুন বিধানের অধীনে যাত্রীরা কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ বিমানে নিতে পারবেন। এর ফলে কেবিন ব্যাগেজের জন্য বর্তমানে কিছু এয়ারলাইন যে অতিরিক্ত ফি নেয়, তা বন্ধ হতে পারে।

তবে যেসব যাত্রী কোনো হ্যান্ড লাগেজ ছাড়াই ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য এয়ারলাইনগুলো কম দামের টিকিট চালু রাখতে পারবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই মূল্যব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

নতুন পরিবর্তনটি ইইউর বিমানযাত্রী অধিকার ব্যবস্থার আরও বড় সংস্কারের অংশ। এর মধ্যে ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়ও রয়েছে।

তবে ব্রিটিশ যাত্রীদের জন্য বিষয়টি ভিন্ন। ব্রেক্সিটের পর তারা ইইউর নাগরিক নন। যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় এয়ারলাইন ইজিজেট ইউকে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রা করা যাত্রীরা নতুন নিয়মের সুবিধা পাবেন না।

ইজিজেটের ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের যাত্রীরা এই সুবিধা পাবেন শুধু ইইউভুক্ত দেশ থেকে ফেরার সময়। একই বিষয় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও জেট২সহ যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্যান্য এয়ারলাইনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে ইজিজেট জানিয়েছে, ইইউর নতুন আইন কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে তারা অন্যান্য ব্রিটিশ এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে নিজেদের ব্যাগেজ নীতিও পর্যালোচনা করে দেখছে।