ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে সম্প্রতি একের পর এক দুঃসাহসী চুরির ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের অভিজ্ঞতায়। মূল্যবান শিল্পকর্ম ও প্রত্নবস্তু নিরাপদ রাখতে কিছু জাদুঘর এখন কী প্রদর্শন করা হবে, তা নতুন করে ভাবছে। খবর: বিবিসি

ফ্রান্সের লুভরের গ্যালারি দ্যাপোলোঁতে ঢুকলে এখনো দেখা যায় ৬০ মিটার দীর্ঘ অলংকৃত ছাদ ও অসাধারণ ভাস্কর্য। তবে প্রদর্শনী কেসে নেই একসময় সেখানে থাকা বিখ্যাত কিছু রত্ন।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে গ্যালারিটি আবার খুলেছে; ফ্রান্সের রাজমুকুটের রত্ন চুরির নয় মাস পর। চুরি থেকে বেঁচে যাওয়া রত্নগুলো নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।

২৭ আগস্ট স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভিলেনা জাদুঘরে ঢুকে চোরেরা মাত্র চার মিনিটে ব্রোঞ্জ যুগের বাটি, বোতল, ব্রেসলেটসহ প্রায় ১০ কেজি সোনার সংগ্রহ নিয়ে যায়। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর ফ্রান্সের রিভিয়েরার রেনোয়া জাদুঘর থেকেও চারটি চিত্রকর্ম চুরি হয়। এর দুটি পরে কাছের বাগানে পাওয়া গেলেও দুটি এখনো নিখোঁজ। জুলাইয়ে সাধারণ দর্শনার্থীর ছদ্মবেশে চোরেরা বারগান্ডির একটি জাদুঘর থেকে ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো ‘ভিক্স টর্ক’ নামের সোনার অলংকারও চুরি করে।

ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ সালের দিকে জাদুঘর চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোথাও হাতুড়ি ও কুঠার দিয়ে কাচের কেস ভাঙা হয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি জাদুঘরের কর্মী ও দর্শনার্থীদের অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো বা আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে কিছু জাদুঘর মূল্যবান আসল শিল্পকর্মের বদলে প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা প্রদর্শনের কথা ভাবছে। ভিলেনার ‘ট্রেজার’ কিংবা ভিক্স টর্কের মতো কিছু নিদর্শন সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এগুলো সরিয়ে নিলে দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতাতেও প্রভাব পড়ে।

ফ্রান্সের একটি জাদুঘর ২০২৪ সালের সশস্ত্র ডাকাতির পর সবচেয়ে মূল্যবান শিল্পকর্মগুলো প্রদর্শন বন্ধ করে দেয়। প্যারিসের আরেকটি জাদুঘর প্রদর্শনী থেকে মূল্যবান এক জোড়া কানের দুল বাদ দিয়েছে। অন্য একটি জাদুঘর উচ্চমূল্যের রত্নের পরিবর্তে কম মূল্যবান বস্তু প্রদর্শন করেছে।

তবে দর্শনার্থীদের কাছে আসল শিল্পকর্ম দেখার আকর্ষণ অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আসল বস্তু মানুষকে এমন অনুভূতি দেয় যে বহু শতাব্দী আগে অন্য কোনো মানুষও একই বস্তুটি ব্যবহার বা স্পর্শ করেছিল।

ভবিষ্যতে তাই জাদুঘরে আরও পুরু কাচ, নিরাপত্তাকর্মী এবং দর্শনার্থী ও শিল্পকর্মের মধ্যে বেশি দূরত্ব দেখা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জাদুঘরগুলোকে ব্যাখ্যা, তথ্য ও প্রদর্শনীর নকশার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সেই সংযোগও ধরে রাখতে হবে।