পর্যটন খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, মূল্য প্রতিযোগিতা ও নীতিগত পরিবেশ বিবেচনায় ২০২৬ সালে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হয়েছে জাপান। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পর্যটন ও ভ্রমণ উন্নয়ন সূচকের তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৬ সালের পর্যটন ও ভ্রমণ উন্নয়ন সূচক বা টিটিডিআইতে ১১০টি অর্থনীতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকটি শুধু কত পর্যটক একটি দেশে যায়, তা বিবেচনা করে না। বরং পর্যটন খাতের টেকসই ও স্থিতিশীল বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ, নিরাপত্তা, পর্যটনসেবা, মূল্য প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।

তালিকায় জাপানের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, চীন, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি। অর্থাৎ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও চীন ছাড়া বাকি ছয়টি দেশ ইউরোপের।

জাপান এবার আগের সূচকের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণ করে। টোকিও, ওসাকা ও হিরোশিমার মতো পরিচিত গন্তব্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশলও জাপানের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। একই বছরে পর্যটকদের ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সূচকে থাকা ১১০টি অর্থনীতির ৯২ শতাংশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। একই সময়ে গড় স্কোর বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ, যা মহামারির পর সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতির সময়।

দ্রুত উন্নতি করা দেশগুলোর তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আলবেনিয়া। ২০২৪ সালের তুলনায় দেশটির সূচক স্কোর ৭ শতাংশ বেড়েছে। পর্যটনসেবা, অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ এবং স্থল ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নতি এ অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। এরপর রয়েছে ভিয়েতনাম, লাওস, কাতার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মরক্কো, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।