প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সিলেটের জাফলং, লালাখাল, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া ও মাধবকুণ্ডে ভিড় করেন পর্যটকেরা। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান ও স্বচ্ছ পানির আকর্ষণে এসব স্থান জনপ্রিয় হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে নদীতে গোসল, চোরাবালি ও পাহাড়ি এলাকায় অসতর্ক চলাচলের কারণে ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা।
সম্প্রতি লালাখালে বেড়াতে গিয়ে চোরাবালিতে আটকা পড়ে কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থী মো. সাঈদ ও ইসহাক ইব্রাহিমের মৃত্যু সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। দুজনের বয়সই ছিল ২৫ বছর। সমসাময়িক প্রতিবেদনে বলা হয়, লালাখালের সীমান্তবর্তী এলাকায় হাঁটুসমান পানিতে নামার পর তারা চোরাবালিতে তলিয়ে যান।
সিলেটের পর্যটন এলাকা গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, জাফলং, লালাখাল ও লোভাছড়ার মতো পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। এসব স্থানে পর্যটক পুলিশের ব্যবস্থা করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক সময় তা নিয়মিতভাবে কার্যকর থাকে না। কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা লাল পতাকা থাকলেও পর্যটকদের কেউ কেউ সেগুলো উপেক্ষা করেন। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতন করাও জরুরি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে গত এক দশকে অন্তত অর্ধশত তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
মাধবকুণ্ডেও পাহাড় থেকে পড়ে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পর সেখানে দুর্ঘটনার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিছনাকান্দি, লালাখাল ও লোভাছড়ায় গত এক দশকে অন্তত ১৫ জন পর্যটক পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এসব দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নতুন করে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড, নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পর্যটকদের সমন্বিত সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে নদী বা ঝরনার পানিতে নামার আগে স্থানীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ না করাই দুর্ঘটনা এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।