বাংলাদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগস্টে ভারতের বিদেশি পর্যটক আগমনে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। প্রাথমিক হিসাবে, এক মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ ভারতে ভ্রমণ করেছেন। একই সময়ে চীনা পর্যটকের সংখ্যাও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংকলিত প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দুর বিজনেসলাইন জানিয়েছে, গত আগস্টে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৯১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে পর্যটক আগমন বেড়েছে অন্তত ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো একক মাসে এটিই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম ভারতের বিদেশি পর্যটক আগমনে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা গেল।
বাংলাদেশ শীর্ষে
আগস্টে ভারত ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকদের উৎসদেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। প্রাথমিক হিসাবে, বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতের জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন উৎসবাজার। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেও বাংলাদেশ ছিল দেশটির অন্যতম বড় বিদেশি পর্যটক উৎস। ওই বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ১৬৫ জন বিদেশি পর্যটক গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীন। আগস্টে চীন থেকে ভারতে পর্যটক আগমন বার্ষিক হিসাবে ১০০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্যটক আগমন ৩ শতাংশ করে বেড়েছে। কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, বাংলাদেশ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি পর্যটক উৎসবাজারগুলোর একটি।
পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে ভারতের কলকাতা, দিল্লি, আগ্রা, চেন্নাই, মুম্বাই, দার্জিলিং, কাশ্মীর ও বিভিন্ন ধর্মীয় এবং চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র জনপ্রিয়। সীমান্তবর্তী যোগাযোগ, বিমান ও স্থলপথের সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক যোগাযোগও ভারতকে বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য করে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়, দ্য হিন্দুর বিজনেসলাইন ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন।