ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে, ভ্রমণের আগে এসব তথ্য এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে দ্রুত পাওয়া যায়। পর্যটকের পছন্দ বিশ্লেষণ করে ভ্রমণসূচি তৈরি থেকে শুরু করে হোটেল, পরিবহন ও গন্তব্য ব্যবস্থাপনা, সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর মূল আলোচনাতেও রয়েছে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

তবে পর্যটন খাতে এআই ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। পর্যটকদের নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডারের ঘাটতি, দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সমস্যা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পর্যটন সূচকে কিছুটা উন্নতি, তবু পিছিয়ে

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ২০২৬ সালের ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে ১১৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৮তম। বাংলাদেশের স্কোর ৩ দশমিক ৩৪। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ৩১তম, শ্রীলঙ্কা ৬৯তম, নেপাল ৮৬তম এবং পাকিস্তান ৯৫তম অবস্থানে রয়েছে।

২০২৪ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯তম। তবে ২০২৬ সালের সূচকের সঙ্গে আগের সংস্করণের সরাসরি তুলনায় পদ্ধতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলেছে ডব্লিউইএফ।

সূচকটি ব্যবসার পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো, পর্যটনসেবা, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং টেকসই পর্যটনসহ ১৭টি স্তম্ভে দেশগুলোর সক্ষমতা পরিমাপ করে।

বড় বাধা তথ্যের ঘাটতি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা না থাকায় নীতিনির্ধারণ ও খাতটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের অধীনে এআইভিত্তিক জাতীয় পর্যটন তথ্যভান্ডার তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে জাতীয় পর্যটক তথ্যভান্ডার, পর্যটন উপগ্রহ হিসাব, পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্যচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সুন্দরবন ও সেন্ট মার্টিনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পর্যটকের চাপ ও পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণেও এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, একটি পর্যটনকেন্দ্রে ক্লিক করলেই সেখানে যাওয়ার উপায়, আবহাওয়া, থাকার ব্যবস্থা, বুকিং, দর্শনীয় স্থান, ইতিহাস ও আশপাশের তথ্য পাওয়া যাবে, এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, পর্যটন খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল রূপান্তর। অভ্যন্তরীণ পর্যটনের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক বাড়াতে এবং দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ব পর্যটনে এআইয়ের গুরুত্ব বাড়ছে

বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ খাতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ কর্মসংস্থান থাকবে। আগামী এক দশকে আরও প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পূর্বাভাস রয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতেও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং এআই ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞ মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞার মতে, তথ্যের গোপনীয়তা, ডেটা ব্যবহারের সীমা, ডেটা সার্বভৌমত্ব, দুর্বল ডিজিটাল অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাও মোকাবিলা করতে হবে।