কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও বিনোদনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। সৈকতসংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের কারণে অনেক স্থান থেকে সাগরের দৃশ্যও আড়াল হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য দূষণ, নিরাপদ গোসলের সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত লাইফগার্ডের অভাব এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দুর্বল উদ্যোগ নিয়ে অভিযোগ করছেন পর্যটকেরা।

সৈকতসংলগ্ন ৭০০-এর বেশি বহুতল ভবন

কক্সবাজারের সৈকতসংলগ্ন প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় গত তিন দশকে ৭০০টির বেশি বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। এসব ভবনের উচ্চতা চার থেকে ১৪ তলা। এর মধ্যে ৫৩৭টি আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব ভবনের মধ্যে মাত্র ১৪টি তারকা মানের প্রতিষ্ঠানে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র আছে মাত্র ৪৫টির। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত এক বছরে ৫১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ১৫৮ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, অধিকাংশ হোটেলে বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকায় প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনা সাগরে মিশছে। মেরিন ড্রাইভের দুই পাশেও ভবন নির্মাণের কারণে ঝাউবাগান, লাল কাঁকড়া ও কাছিমের প্রজনন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পর্যটক বাড়ছে, বিনোদন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

হোটেল মালিক সমিতি ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কক্সবাজারে অন্তত ৯০ লাখ পর্যটক এসেছেন। আগের বছর ছিলেন প্রায় ৮০ লাখ। চলতি বছরের নয় মাসে এসেছেন ৫০ লাখের বেশি। কিন্তু পর্যটকদের জন্য রাতের বিনোদন ও পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন সীমিত।

নিরাপদ গোসল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সৈকতে ১৭টির বেশি গুপ্তখাল বা পানির নিচের বিপজ্জনক স্রোত রয়েছে। কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারে ২৭ জন লাইফগার্ড থাকলেও দীর্ঘ উপকূলজুড়ে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই। ২০১২ সাল থেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটককে উদ্ধারের দাবি করেছে বেসরকারি লাইফগার্ড সংস্থা; একই সময়ে স্রোতে ভেসে নিহত ৮০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে তারা।

বিদেশি পর্যটক টানতে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার দাবি

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারে প্রকৃতি রক্ষা করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং রাতের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়তে পারে।