বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প ও পাহাড়ি নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রায় ৫০টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এ মেলা পর্যটন আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে।
রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা পরিষদের আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন।
দীপন তালুকদার দীপু বলেন, পাহাড়ের উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত ও রপ্তানির সুযোগ তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুফল তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেলায় রাঙামাটির স্থানীয় কৃষি ও হস্তশিল্পের প্রায় ৫০টি স্টল রয়েছে। পাহাড়ি নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা সামগ্রীও প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পণ্য পর্যটকদের জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও সুযোগ তৈরি করছে।
রাঙামাটি দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য, নৌভ্রমণ ও স্থানীয় সংস্কৃতির কারণে দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য। ফলে পর্যটনকেন্দ্রিক মেলায় স্থানীয় পণ্য ও সংস্কৃতির উপস্থাপন পর্যটকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির সংযোগ বাড়াতে পারে।
মেলায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য ও পর্যটনবিষয়ক আহ্বায়ক শ্বাশৎ চাকমা রিংকু, রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা, সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, নন্দিতা দাশসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের আশা, তিন দিনের এ মেলা রাঙামাটির পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পর্যটন খাতের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরি করবে।