টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের ৫০টি জেলাজুড়ে বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রধান সড়কগুলোও প্লাবিত হয়েছে।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খালের পাশে বসবাসকারীদের ঘরের মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মীনবুরি ও ক্লং সাম ওয়াসহ পূর্ব ব্যাংককের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৭০ মিলিমিটারের বেশি হয়েছে। পানি সরাতে পাম্প চালানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।
গভর্নর চাদচার্ট বলেন, “বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে এবং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা পাম্প করে পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু খালগুলোর পানি পূর্ণ হয়ে গেছে।” তিনি খালের পাশে বসবাসকারীদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন।
মধ্য ব্যাংককের উত্তরে খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী দোকানি সোমকিদ ফিউক-নগাম বলেন, “পানি আসতেই আছে। এখন বাইরে যাওয়া কঠিন। এখন তো পানি কোমর পর্যন্ত উঠে গেছে।” তিনি জানান, দুই দিন ধরে তাঁর দোকান বন্ধ।
২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার কথাও নতুন করে সামনে এসেছে। ওই বছর থাইল্যান্ডজুড়ে বন্যায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং লাখ লাখ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
ব্যাংককের দুই প্রধান বিমানবন্দর, সুবর্ণভূমি ও ডন মুয়াং, চালু রয়েছে। তবে সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বিমানবন্দরে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। পর্যটন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগেভাগে রওনা হয়ে বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে বলেছে।
থাই আবহাওয়া অধিদপ্তর ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংককসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, থাই আবহাওয়া অধিদপ্তর ও থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ।