ফিনল্যান্ডে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রৌপ্যভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন এক ব্যক্তি।
ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ৪ হাজারের বেশি রুপার মুদ্রা রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ফিনল্যান্ডে আবিষ্কৃত এ ধরনের সবচেয়ে বড় ভাইকিং যুগের মুদ্রাভাণ্ডার।
মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারকারী কালে লাপ্পিনেন রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে প্রায় ১০৫ মাইল উত্তর-পূর্বে সিসমা শহরের কেন্দ্রের কাছে এই গুপ্তধনের সন্ধান পান। গত ৩ সেপ্টেম্বর আবিষ্কারের পর তিনি দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরদিনই লাহতী মিউজিয়ামের প্রত্নতাত্ত্বিকেরা রৌপ্যগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।
জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ভাণ্ডারটিতে রয়েছে হাজার হাজার রৌপ্যমুদ্রা, টুকরো রৌপ্য, একটি রৌপ্যের ব্রেসলেট, একটি ধাতব অলংকার ও একটি পুঁতি।
মুদ্রাগুলোর মধ্যে বর্তমান সুইডেন, ব্রিটেন ও জার্মানি থেকে আসা মুদ্রা রয়েছে। এছাড়া রয়েছে এমন কিছু রৌপ্য মুদ্রা, যেগুলো বর্তমানে তুরস্ক ও ইরানের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। উদ্ধার করা মুদ্রাগুলোর মোট ওজন প্রায় ১০ পাউন্ড, অর্থাৎ সাড়ে চার কেজির কিছু বেশি।
প্রত্নতাত্ত্বিক এসকো টিক্কালার মতে, প্রাথমিকভাবে মুদ্রাগুলোকে ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টাব্দের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মুদ্রাগুলো পরিষ্কার করে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই সময়কাল আরও নির্দিষ্ট করা হবে।
এই আবিষ্কারের বিশাল আকার প্রত্নতাত্ত্বিকদেরও অবাক করেছে। টিক্কালা বলেন, সাধারণত তাঁরা কয়েক ডজন বা কয়েক শ মুদ্রার ভাণ্ডার খুঁজে পান। কিন্তু সিসমার এই আবিষ্কারে রয়েছে হাজার হাজার মুদ্রা।
তার মতে, আবিষ্কারটি প্রমাণের নতুন ভিত্তি তৈরি করছে যে প্রায় এক হাজার বছর আগে সিসমা গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন দিকের অঞ্চলের সঙ্গে তখন এই এলাকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
ফিনল্যান্ডের আগের সবচেয়ে বড় ভাইকিং যুগের মুদ্রাভাণ্ডারটি ১৮৯৫ সালে নুসিয়াইনেনে পাওয়া যায়। সেখানে ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০ মুদ্রা। নতুন আবিষ্কারে মুদ্রার সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি।
এই বিপুল সম্পদের মালিক কে ছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কেন তিনি রৌপ্যগুলো মাটির নিচে লুকিয়েছিলেন, সেটিও রহস্য। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, কোনো ব্যবসায়ী হয়তো নিজের সম্পদের একটি অংশ নিরাপদে রাখার জন্য মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন। আবার স্থানীয় কোনো ধনী ব্যক্তি সংঘাত বা শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় এগুলো লুকিয়ে রাখতে পারেন।
ফিনল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরের ফ্রিদা এরনস্টেন বলেন, এই আবিষ্কার প্রায় এক হাজার বছর আগে অঞ্চলটিতে রৌপ্য কীভাবে চলাচল করত, সে সম্পর্কে গবেষকদের নতুন ধারণা দিতে পারে।
তিনি জানান, রৌপ্যভাণ্ডারটি প্রায় ৩৯ ফুট দূরত্বে দুটি পৃথক জায়গায় পাওয়া গেছে। এ ধরনের ‘দ্বৈত ভাণ্ডার’-এর উদাহরণ আগে খুব বেশি জানা ছিল না।
গবেষকদের মতে, ফিনল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিক মুদ্রা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে শখের মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে ফিনল্যান্ডে ভাইকিং যুগের পরিচিত মুদ্রার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার।