যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, গ্রিন কার্ড বা কাজের অনুমতিপত্র দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা চাইলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সরকারের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ দিলে আবেদন দ্রুত এগিয়ে দেওয়া যাবে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসা নিশ্চিত করা যাবে, এমন দাবি প্রতারণার লক্ষণ হতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের কাছে এ ধরনের প্রস্তাব আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তবে শুধু কোনো মধ্যস্থতাকারীকে বাড়তি অর্থ দিলেই ভিসা অনুমোদন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সরকারি সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ থাকার দাবি করে। কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে দ্রুত গ্রিন কার্ড বা কাজের অনুমতিপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়।
কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে এবং সহায়তা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অভিবাসন সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা সাধারণত ‘ডট গভ’ দিয়ে শেষ হয়।
নিজের আবেদন নিজেই করা যায়
অভিবাসনসংক্রান্ত ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী নিজেই প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ ও জমা দিতে পারেন। তবে আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশার অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবী অথবা বিচার বিভাগের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি থেকে সহায়তা নেওয়া উচিত।
শুধু ‘ভিসা বিশেষজ্ঞ’ বা ‘অভিবাসন বিশেষজ্ঞ’ পরিচয় ব্যবহার করলেই কেউ আইনগতভাবে আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতি পান না।
দ্রুত সাক্ষাৎকার আর দ্রুত ভিসা এক নয়
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট নির্বাচিত কিছু দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে বি শ্রেণির ভিসার সাক্ষাৎকার দ্রুত করার একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। যোগ্য আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ মার্কিন ডলার দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই অর্থ ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না, এটি শুধু আগে সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেয়।
তাই কেউ যদি সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে ভিসা নিশ্চিত বা দ্রুত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেন, তার দাবি যাচাই না করে অর্থ দেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের করণীয়
ভিসার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার, দামি অফিস, বিদেশে পরিচিতি বা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি দেখে কাউকে বিশ্বাস করবেন না।
প্রয়োজনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি তথ্যসূত্র থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া ও ফি সম্পর্কে তথ্য নিন। প্রতারণার আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগ করার ব্যবস্থাও রয়েছে।