কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটনস্থল শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে ধারাবাহিকভাবে কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। এর সঙ্গে কমছে রাজস্ব আয়ও। তিন অর্থবছরের হিসাব বলছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দর্শনার্থী কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ এবং রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
কুমিল্লা নগরী থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বিহার ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এর পাশেই রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর, যেখানে প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে দর্শনার্থী ছিলেন ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৮ জন। এ সময় রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ টাকা।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দর্শনার্থী কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ জন। রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দর্শনার্থী আরও কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩ হাজার ২৭২ জন। রাজস্ব আয় নেমে আসে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকায়।
শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে দর্শনার্থীর ওপর। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলভিত্তিক ভ্রমণ কমেছে।
সম্প্রতি শালবন বিহারে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ ঘাস, ফুল ও বিভিন্ন গাছপালায় এলাকা সুন্দর হয়ে উঠেছে। তবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। পশ্চিম পাশে কয়েকটি বেঞ্চ ভাঙা। কিছু সিমেন্টের পথও ক্ষতিগ্রস্ত।
নরসিংদীর রায়পুরা থেকে আসা ওবায়েদুল্লাহ বলেন, খাবারের দোকান ও শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকলেও এগুলো আরও উন্নত করা প্রয়োজন। ঢাকা থেকে আসা সাব্বির হোসেন সৌরভ বলেন, ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানতে এমন স্থানে ভ্রমণ করা প্রয়োজন। যোগাযোগ ও মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থা আরও উন্নত করা উচিত।
দর্শনার্থী নিহাল আহমেদ বলেন, দেশের হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শনগুলো বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারলে পর্যটন আরও বাড়তে পারে।
কুমিল্লার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলভিত্তিক ভ্রমণ কমেছে। এতে শালবন বিহারের মতো ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণও কমে গেছে।
কুমিল্লার বরুড়া থেকে আসা নাহিদ হাসান তানভীরের মতে, কয়েক বছর পর এসে তিনি কিছুটা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি দেখেছেন। ভাঙা পথ ও বেঞ্চ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. শাহীন আলম বলেন, ২০২৪ সালের পর থেকে দর্শনার্থীর পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও কমছে। চলতি অর্থবছরে দর্শনার্থী বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, দর্শনার্থী বাড়াতে ময়নামতি জাদুঘরের পাশে শিশু কর্নার স্থাপন করা হচ্ছে। গাড়ি রাখার মাঠের উত্তর পাশে ফুডকোর্ট এবং পশ্চিম পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মিলনায়তন স্থাপনের আবেদন করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ, আনসার ও সিভিল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে।