সড়কের পাশে অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে প্রায় পাঁচজন চালকের একজন অনিচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করেছেন। এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আরএসি’র উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া চালকদের ১৯ শতাংশ বলেছেন, অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা, গাছের ডাল বা হেজের আড়ালে সড়কের গতিসীমার চিহ্ন ঢাকা পড়ে যাওয়ায় তারা না চাইলেও গতিসীমা অতিক্রম করেছেন। খবর: ইনডিপেনডেন্ট
জরিপে অংশ নেওয়া চালকদের ৯৪ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা রাস্তার পাশে গাছ, ডালপালা বা ঝোপঝাড়ের কারণে আংশিক বা পুরোপুরি ঢাকা পড়ে থাকা সড়কচিহ্ন দেখেছেন। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ বলেছেন, তারা এ ধরনের অস্পষ্ট বা ঢাকা পড়া চিহ্ন নিয়মিতই দেখতে পান।
শুধু গতিসীমা অতিক্রম নয়, বিষয়টি সড়কের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ চালক বলেছেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে ওঠা গাছপালার কারণে কোনো সংযোগ সড়ক বা গোলচত্বর থেকে নিরাপদে মূল সড়কে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
গাছপালার আড়ালে সবচেয়ে বেশি ঢাকা পড়ে যেসব সড়কচিহ্ন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গতিসীমার চিহ্ন, ‘স্টপ’ চিহ্ন এবং ‘গিভ ওয়ে’ বা অন্য যানবাহনকে আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অপরিচ্ছন্ন ও অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালার কারণে ২১ শতাংশ চালক নির্ধারিত মোড় মিস করেছেন। ১৩ শতাংশ চালককে হঠাৎ জোরে ব্রেক করতে হয়েছে। আর ৫ শতাংশ চালক অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘গিভ ওয়ে’ চিহ্ন অমান্য করেছেন।
মোটরিং সেবা প্রতিষ্ঠান আরএসি সম্পত্তির মালিকদের তাদের জমিতে থাকা গাছপালা, ডালপালা বা ঝোপঝাড়ের অবস্থা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। এগুলো যেন সরকারি সড়ক বা ফুটপাথে ছড়িয়ে পড়ে সড়কচিহ্ন আড়াল না করে এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরএসি’র মুখপাত্র হ্যারিয়েট হার্নান্দো বলেন, গাছপালার আড়ালে সড়কচিহ্ন দেখা না যাওয়ার কারণে এতসংখ্যক চালক গতিসীমা অতিক্রম করেছেন—বিষয়টি উদ্বেগজনক। অল্পসংখ্যক চালক দুর্ঘটনাবশত ‘গিভ ওয়ে’ চিহ্ন উপেক্ষা করলেও এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
আরএসি’র জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান অনলাইন-নাইনটিফাইভ আগস্ট মাসে যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ৪১২ জন চালককে নিয়ে এই জরিপ পরিচালনা করে।