আগস্ট মাসে বিমানভাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। 
ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে বলে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ট্রাভেল উইকলির খবরে বলা হয়েছে।
শুধু এক বছরের ব্যবধানেই নয়, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টেও বিমানভাড়া বেড়েছে। স্বাভাবিক মৌসুমি মূল্য ওঠানামার বিষয়টি সমন্বয় করার পর দেখা গেছে, ইতোমধ্যে বেশি থাকা জুলাইয়ের দামের তুলনায় আগস্টে বিমান ভ্রমণের খরচ আরও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
শীতের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিমান ভ্রমণের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকে। যুদ্ধ শুরুর পর জেট জ্বালানির দামে আকস্মিক উল্লম্ফন ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন একাধিকবার ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বা আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও কমিয়ে দেয়।
১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘ডাচেস ব্যাংক এভিয়েশন ফোরামে’ অংশগ্রহণ করা প্রায় সব এয়ারলাইন জানিয়েছে, ভাড়া বাড়লেও বিমান ভ্রমণের চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। 
সম্মেলনে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড, সাউথওয়েস্ট, ফ্রন্টিয়ার, জেটব্লু, অ্যালিজিয়েন্ট, ব্রিজ, অ্যাভেলোসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন অংশ নেয়।
১০ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দেওয়া এক নথিতে জেটব্লু জানায়, বিমানভাড়া বাড়লেও চাহিদা কমে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ তারা দেখতে পাচ্ছে না। বরং এতে বিদ্যমান চাহিদা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আস্থা আরও জোরালো হয়েছে।
এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরেও বুকিংয়ের প্রবণতা শক্তিশালী রয়েছে। 
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়ায় জেট ফুয়েলের দামও দ্রুত বেড়েছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আরগাসের তথ্য বলছে, ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জেট ফুয়েলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫০ সেন্ট বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই দাম বেড়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জেট ফুয়েলের গড় দাম দাঁড়ায় প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা পুরো গ্রীষ্মের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিমান ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও জ্বালানির এই উচ্চমূল্য এয়ারলাইনগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে সামনে বিমানভাড়া আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।