সুইজারল্যান্ডের বরফঢাকা আল্পস, নীল হ্রদ, সাজানো পাহাড়ি গ্রাম আর মনোরম রেলপথ ইউরোপ ভ্রমণপিপাসুদের দীর্ঘদিনের আকর্ষণ। তবে দেশটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে ভ্রমণ বাজেট দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিমানভাড়া, ভিসা, আবাসন, খাবার, স্থানীয় পরিবহন এবং পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল।
তবে কিছুটা আগাম পরিকল্পনা করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ভ্রমণসূচি অনুযায়ী পরিবহনের টিকিট বেছে নেওয়া, শহরের কেন্দ্রের বাইরে থাকা এবং প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় না খাওয়ার মতো কিছু কৌশল বাজেট কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আগে হিসাব করুন ট্রাভেল পাসের খরচ
সুইজারল্যান্ডের রেলব্যবস্থা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তবে পুরো ভ্রমণসূচি না দেখে সরাসরি সুইস ট্রাভেল পাস কেনা সবসময় সাশ্রয়ী নাও হতে পারে।
আগে কোথায় কোথায় যাবেন, কত দিন ট্রেনে চলবেন এবং কোন কোন রুটে যাতায়াত করবেন তা ঠিক করুন। এরপর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট টিকিট, সেভার ডে পাস বা সুইস ট্রাভেল পাসের খরচ তুলনা করুন।
সুইজারল্যান্ডের সরকারি রেল সংস্থা এসবিবির তথ্য অনুযায়ী, আগাম কিনলে সেভার ডে পাসে কম দামে সারা দিনের ভ্রমণ করা যায়। ২০২৬ সালের বর্তমান দামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এটি অর্ধেক ভাড়া কার্ড ছাড়া ৫২ সুইস ফ্রাঁ থেকে এবং অর্ধেক ভাড়া কার্ডসহ ২৯ সুইস ফ্রাঁ থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
শহরের কেন্দ্রে না থাকলেও চলবে
জুরিখ, জেনেভা বা জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রের একেবারে কেন্দ্রে থাকার জায়গা নিলে আবাসন খরচ বেশি হতে পারে। তাই কাছাকাছি অপেক্ষাকৃত কম দামের এলাকায় থাকার কথা ভাবুন।
তবে থাকার জায়গাটি যেন রেলস্টেশন বা সহজ গণপরিবহনের কাছে হয়। এতে আবাসন খরচ কমানোর পাশাপাশি মূল পর্যটন এলাকায় যাতায়াতও সহজ থাকবে।
প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় খাবেন না
সুইজারল্যান্ডে খাবারের খরচও বাজেট বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিটি খাবার রেস্তোরাঁয় না খেয়ে মাইগ্রোস ও কুপের মতো সুপারমার্কেট থেকে স্যান্ডউইচ, নাশতা ও অন্যান্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার নেওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘ ভ্রমণে বাংলাদেশ থেকে শুকনো খাবার বা নাশতা নেওয়া যেতে পারে। তবে যাত্রার আগে সুইজারল্যান্ডের খাদ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
সব পাহাড়ি রাইডে চড়ার প্রয়োজন নেই
সুইজারল্যান্ডে প্রতিটি গন্ডোলা, পাহাড়ি রেল বা ভিউপয়েন্টে অর্থ খরচ করার প্রয়োজন নেই। ভ্রমণতালিকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কয়েকটি অভিজ্ঞতা বেছে নিন।
অনেক সময় হ্রদের পাড়ে হাঁটা, নদীর ধারে সময় কাটানো বা পাহাড়ি গ্রামের পথে ঘোরাই হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। পায়েল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “সুইজারল্যান্ডে আমার সবচেয়ে প্রিয় কিছু মুহূর্তের জন্য এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি!”
বাজেটের বাস্তবতা মাথায় রাখুন
পায়েলের ভাষায়, “সুইজারল্যান্ড বাজেটের মধ্যে ভ্রমণের গন্তব্য নয়, আর সেটাই স্বাভাবিক।”
তাই বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে বিমানভাড়া ও হোটেলের পাশাপাশি স্থানীয় যাতায়াত, খাবার, দর্শনীয় স্থান, পাহাড়ি ভ্রমণ এবং জরুরি খরচ ধরে পূর্ণাঙ্গ বাজেট তৈরি করা ভালো।