টোকিওর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শিনজুকুতে পর্যটকদের আচরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বাড়তে থাকায় স্বল্পমেয়াদি বেসরকারি আবাসন বা ‘মিনপাকু’ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব আবাসন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে শিনজুকুর প্রায় ৪ হাজার স্বল্পমেয়াদি ভাড়াবাসার অর্ধেকেরও বেশি প্রভাবিত হতে পারে।
জাপান পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুলাই পর্যন্ত শিনজুকুতে নিবন্ধিত স্বল্পমেয়াদি ভাড়াবাসার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৭৫টি, যা দেশটির পৌরসভাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আগস্টের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৮টিতে দাঁড়ায় বলে স্থানীয় তথ্যের বরাতে জিজি প্রেস জানিয়েছে।
চলতি বছর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত শব্দ, নিয়ম না মেনে আবর্জনা ফেলা, নির্ধারিত স্থান ছাড়া ধূমপান, অনধিকার প্রবেশ এবং রাস্তায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি। ২০২৫ অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত শিনজুকু ওয়ার্ডে এসব বিষয়ে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩৪টি। ২০২১ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮২।
শিনজুকু স্টেশন, বিশ্বের ব্যস্ততম রেলকেন্দ্রগুলোর একটি, এবং কাবুকিচোর প্রাণবন্ত নৈশজীবনের জন্য এলাকাটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে জাপানে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ও পর্যটনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় নতুন মিনপাকু স্থাপনা মূলত নিষিদ্ধ করা হবে। স্কুল ও শিক্ষাকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকাতেও বিধিনিষেধ থাকবে। বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আবাসনের কার্যক্রম বছরে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ১২০ দিনে নামানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হবে। মালিক নিজে বসবাস করেন এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবাসন পরিচালনা করেন, এমন কিছু স্থাপনা শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন পেতে পারে। বিদ্যমান আবাসনগুলোর জন্যও একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিনজুকু ওয়ার্ড অক্টোবরে জনমত গ্রহণ করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বিধি ২০২৭ সালের জুনে কার্যকর হতে পারে।