সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে আবারও পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের সৈকত এলাকা। শুক্রবার বিকেল থেকে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। উত্তাল ঢেউ, মেঘ-রোদের পালাবদল আর সমুদ্রের নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পর্যটনকেন্দ্রটিতে।

শুক্রবার বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ করছেন, কেউ আবার সৈকতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে ছুটির দিন কাটাতে এসেছেন অনেকে। বালুচরে শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি ঘোড়ার পিঠে চড়েও সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকেরা।

বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে কক্সবাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকদের উপস্থিতি। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, সামনে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা পর্যটক সিফাত মজুমদার বলেন, ‘কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই বন্ধুর সঙ্গে হুট করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চলে এলাম। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত খুবই সুন্দর একটা দিন পার করলাম।’

আরেক পর্যটক উম্মে হাবিবা বলেন, ‘চমৎকার সমুদ্র, চমৎকার পরিবেশ। হোটেল-মোটেলেও ভালো সেবা পেয়েছি। সমুদ্রও দারুণ।’

পর্যটক জেনিফা মারজান বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ, এই যে সৌন্দর্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো।’

তবে উত্তাল সাগরের কারণে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সি সেফ লাইফ গার্ডের জ্যেষ্ঠ লাইফ গার্ড কর্মী সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘আমরা লাইফ গার্ড সদস্যরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছি। সাগরের ঢেউ উত্তাল থাকায় এখনও লাল পতাকা উড়িয়ে সমুদ্রস্নানে সতর্ক করা হচ্ছে পর্যটকদের।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি চলছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটন শিল্পের ভালো ব্যবস্থাপনা সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’