বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ খেলা হিসেবে বেশির মানুষই হয়ত ‘কোক-বোরু’র নাম শোনেননি। তবে কির্গিজস্তানের চোলপন-আতায় অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমিংয়ে’ এ খেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন একদল মার্কিন কাউবয়।
কির্গিজস্তানের জাতীয় খেলা কোক-বোরু দেখতে অনেকটা পোলো খেলার মতো। তবে এখানে কোনো বল নয়, ঘোড়ায় চড়ে খেলোয়াড়েরা প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি মাথাবিহীন ছাগলের চামড়া বা মৃতদেহের দখল নিতে লড়াই করেন এবং তা প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে (তাইকাজান) ফেলার চেষ্টা করেন। হাজার বছরের পুরোনো এই প্রথাটি যাযাবর ঐতিহ্যের প্রতীক, যা ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। খবর : সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের নয়জন খামার মালিক ও কাউবয় নিজেদের খরচে প্রায় ১ লাখ ডলার ব্যয় করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মধ্য এশিয়ার এ দেশে আসেন। ২০১৪ সাল থেকে তাঁরা টানা লড়াই করে যাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে জিততে পারেননি, তবুও এই কাউবয়রা বারবার ফিরে আসেন খেলাটির প্রতি ভালোবাসা ও ঘোড়সওয়ারির রোমাঞ্চ থেকে। মার্কিন দলের অধিনায়ক ল্যাড হাওয়েল একাই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫টি গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’ কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি মধ্য এশিয়ার যাযাবর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় পুনরুজ্জীবনের এক বিশাল উৎসব। চীন ও সোভিয়েত শাসনের অধীনে থাকা সংস্কৃতিকে নতুন করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে কির্গিজস্তান এই আসরের আয়োজন করে। এখানে ১১২টি দেশের প্রায় ৩,০০০ অ্যাথলেট অংশ নেন। ধনুর্বিদ্যা, কুস্তি ও ঐতিহ্যবাহী খেলার পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক ও পর্যটন কূটনীতির একটি বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
আমেরিকান কাউবয়রা নিজেদের অর্থায়নে খেলায় অংশ নেন। তাদের সঙ্গে কির্গিজ খেলোয়াড়দের গড়ে উঠেছে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। স্থানীয় মানুষ এবং আয়োজকরা এই মার্কিন দলকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কাউবয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং যাযাবর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটাতে তাঁরা প্রতি দুই বছর পর পর এই প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।