চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) পাহাড় থেকে নেমে আসা দুটি বন্যহাতির বিচরণ ঘিরে আতঙ্কের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি। হাতি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের একাংশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে কাছে গিয়ে চিৎকার, ঢিল ছোড়া ও মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে ছবি ও ভিডিও করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় দুটি বন্যহাতিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। হাতি দেখতে সড়কের পাশে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতি দুটি কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকা ও দর্শনীয় স্থানে বিচরণ করছে। প্রতিদিনই হাতি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তাঁদের কেউ হাতির খুব কাছে চলে যাচ্ছেন, কেউ চিৎকার করছেন, আবার কেউ ঢিল ছুড়ে বা মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মানুষের এমন আচরণে হাতি দুটি উত্তেজিত হয়ে উঠছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী বন বিভাগের বনকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা বা কাছে গিয়ে উত্ত্যক্ত করা মারাত্মক অপরাধ এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিরক্ত করলে শান্ত হাতিও হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার এবং কোনোভাবেই হাতিকে উত্ত্যক্ত না করার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হাতি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ইআরটি সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগে থেকে বন্যহাতির পাল কেইপিজেডের পাহাড়ে অবস্থান নেয়। কয়েক বছর বিচরণ করার পর ২০১৮ সাল থেকে হাতিগুলো দেয়াঙ পাহাড়ের কেইপিজেড এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে শুরু করে। আনোয়ারার বটতলী ও হাজীগাঁও এবং কর্ণফুলীর কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড়, হ্রদ ও বনঘেরা এলাকায় হাতির বিচরণ রয়েছে।

গত কয়েক বছরে হাতির কারণে ফসলের ক্ষতি ও মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বন্যহাতি দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রাণীগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া জরুরি।