দেশ-বিদেশের ভ্রমণ গন্তব্য, পর্যটন পণ্য, ভ্রমণসেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ এক জায়গায় তুলে ধরতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ১৩তম এশিয়ান পর্যটন মেলা। আগামী বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হবে তিন দিনের এ মেলা। বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। প্রায় ৩০০টি বুথে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হবে।
সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ভ্রমণ সংস্থা, বিমান সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও মিশন অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালয়েশিয়া, চীন ও পাকিস্তান।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। প্রবেশ কুপনের বিপরীতে র্যাফেল ড্রতে সৌজন্য বিমান টিকিট, দেশ-বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ ও উপহার কুপন জেতার সুযোগ থাকবে।
মেলার বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য বিটুবি সভা, সেমিনার, গন্তব্য পরিচিতি, প্যানেল আলোচনা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট যোগাযোগের সুযোগ থাকবে।
এবারের মেলায় হাওর, সুন্দরবন, নৌপর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার, পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীভিত্তিক পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণে এ মেলা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, মেলাটি দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করবেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় মেলাটি আয়োজন করা হচ্ছে।