দূরপাল্লার আরামদায়ক ভ্রমণের জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশে স্লিপার বাসের চাহিদা বাড়লেও মহাসড়কে এসব বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনো আইনগত ও কারিগরি অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাই কোর্ট স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে মালিকদের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি এবং জানিয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া যানবাহনই কেবল সড়কে চলতে পারবে।

বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালত বলেছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুসরণ করে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসই সড়কে চলাচল করতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূতভাবে পরিচালিত বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই।

বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের বাস জব্দ, ডাম্পিং বা অন্য কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল। তবে শুনানি শেষে হাই কোর্ট কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি।

মালিক সমিতির আবেদনে বলা হয়, ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত।

আবেদনে আরও বলা হয়, স্লিপার বাসের কাঠামো ও নকশা নিয়ে বিদ্যমান আইন বা বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কিংবা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নেই। বাসগুলোর অনুমোদনের লক্ষ্যে বিআরটিএ কারিগরি কমিটি গঠন করেছে এবং বুয়েটের মাধ্যমে কাঠামোগত নিরাপত্তা ও এআইএস-১১৯ মানদণ্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, কিছু বাস সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে পরে স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হয়েছে। তার ভাষ্য, স্লিপার বাসের জন্য বিআরটিএ কোনো পৃথক অনুমোদন দেয়নি।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলতে পারে না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণকারীদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ

দূরপাল্লার বা রাতের ভ্রমণে স্লিপার বাসের টিকিট কেনার আগে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বাসের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিট ও বৈধ পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় বিআরটিএ অনুমোদন ছাড়া কোনো স্লিপার বাসের মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি নেই।