দুবাই ভ্রমণে গিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করতে চাইলে অনেক পর্যটক একটি পরিচিত সমস্যায় পড়েন, ঠিকানা দেওয়ার সময় ওয়েবসাইটে পোস্টাল কোড বা জিপ কোড চাওয়া হয়। অথচ দুবাইয়ে বিশ্বের অনেক দেশের মতো এলাকা-ভিত্তিক প্রচলিত পোস্টাল কোড ব্যবস্থা নেই। তারপরও প্রতিদিন শহরটির অসংখ্য ঠিকানায় চিঠি ও পার্সেল পৌঁছে যায় নির্ভুলভাবে।

দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঠিকানা শনাক্তে সাধারণত প্রাপকের নাম, ডাকবাক্স নম্বর, ভবন বা বাড়ির নাম, রাস্তা, ফ্ল্যাট বা ইউনিট নম্বর, এলাকা এবং ফোন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমিরেটস পোস্টের নির্দেশিত ঠিকানা বিন্যাসেও প্রাপকের নাম, ডাকবাক্স নম্বর, ভবনের নাম, রাস্তার নাম, ফ্ল্যাট নম্বর, আমিরাত ও ফোন নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডাকবাক্স বা পি.ও. বক্স ব্যবস্থাও দুবাইয়ের ডাকসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ডাকবাক্স ভাড়া নিয়ে চিঠি ও অন্যান্য ডাক গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে কুরিয়ার ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পার্সেল পৌঁছে দেয়।

পর্যটকদের কী করতে হবে?

দুবাইয়ে হোটেল, রিসোর্ট বা অন্য কোনো আবাসনে অবস্থানরত পর্যটকদের অনলাইনে পণ্য অর্ডারের আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ঠিকানায় নিজের নাম, হোটেলের নাম, কক্ষ নম্বর, ভবনের পূর্ণ ঠিকানা, এলাকা, দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম ও সচল ফোন নম্বর দেওয়া জরুরি।

দুবাইয়ের সরকারি ঠিকানা কাঠামোয় ভবন, কমিউনিটি, রাস্তা, এলাকা ও অতিরিক্ত ল্যান্ডমার্কের তথ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে সরকারি ভৌগোলিক ঠিকানা ব্যবস্থা ‘মাকানি’ কোডও অতিরিক্ত অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বিদেশি অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইটে পোস্টাল কোডের ঘর বাধ্যতামূলক থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা-ভিত্তিক পোস্টাল কোড অনুমান করে দেওয়া উচিত নয়। কিছু অনলাইন ফরমে ‘০০০০০’ ব্যবহৃত হয়, তবে এটি সব ওয়েবসাইট বা সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তাই অর্ডার দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পার্সেলের অবস্থান জানতে সাধারণত ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করা হয়। এমিরেটস পোস্টও চালানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ট্র্যাকিং নম্বরের ব্যবস্থা রাখে।