প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি পথ আর রোমাঞ্চকর ভেলা ভ্রমণের জন্য পরিচিত বান্দরবানের রোয়াংছড়ির দেবতাখুম। কিন্তু জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়ক এখন ভাঙন, ধস ও বড় গর্তে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রোয়াংছড়ি–কচ্ছপতলী সড়কের বেহাল অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

দেবতাখুমে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ এই সড়ক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোয়াংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দেবতাখুমের প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড়ঘেরা জলপথে ভেলা ভ্রমণ। এর পাশেই রয়েছে শীলবান্ধা ঝরনা।

বর্তমানে রোয়াংছড়ি–কচ্ছপতলী সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খালসংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার সড়ক ভেঙে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও খাদের পাশের অংশে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা দেয়াল বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। বৃষ্টিতে সৃষ্ট কাদামাটি ও বড় গর্তের কারণে প্রায়ই যানবাহন বিকল হচ্ছে এবং চলাচলে দীর্ঘ ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

রোয়াংছড়ি ট্যুর গাইড সমিতির সভাপতি ও সংবাদকর্মী চিংনুমং মার্মা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংচংঙ্গা বলেন, সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াই অং মার্মা বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়কটি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে টেকসই সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণেরও দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ ফয়েজ জানান, প্রশাসন সড়কটির সমস্যার বিষয়ে অবগত এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, দেবতাখুমের মতো দুর্গম ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পর্যটক আকর্ষণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।