নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ভোরের শুরু হয় হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে। ঘন বাঁশঝাড় ও গাছপালায় নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কারণে গ্রামটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘পাখির গ্রাম’ নামে। প্রকৃতি, পাখি পর্যবেক্ষণ ও গ্রামীণ পরিবেশে সময় কাটাতে আগ্রহী ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য জায়গাটি হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় একটি গন্তব্য।
ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের এই গ্রামের প্রায় চার একর ২০ শতকজুড়ে বিস্তৃত বাঁশঝাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাখিদের নিরাপদ আবাস। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের যত্ন ও পাখির প্রতি সহনশীল আচরণের কারণে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বক, পানকৌড়ি, রাতচরা বক, ঘুঘু, শালিক, বাবুই ও চড়ুইসহ বিভিন্ন পাখির উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
ভোরের আলো ফুটতেই খাবারের সন্ধানে পাখিদের উড়াউড়ি শুরু হয়। আবার বিকেলের দিকে দল বেঁধে তারা ফিরে আসে নিজেদের আশ্রয়ে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা গ্রামটিতে আসছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রকৃতির কাছে অন্যরকম এক ভ্রমণ
শহরের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামীণ প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া হতে পারে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার জায়গা। বাঁশঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে পাখির কলকাকলি শোনা, ভোর কিংবা বিকেলের পাখিদের চলাচল দেখা এবং গ্রামের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করা এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য ভোর ও বিকেলের সময় তুলনামূলকভাবে উপযোগী। তবে দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জোরে শব্দ করা, পাখিকে তাড়া করা, বাসার কাছে যাওয়া বা গাছে ওঠার মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। দূরবীন ও ক্যামেরা ব্যবহার করে নিরাপদ দূরত্ব থেকে পাখি দেখা ও ছবি তোলা যেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া ভবিষ্যতে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য পাখি পর্যবেক্ষণ ও গ্রামীণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। তবে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাখির নিরাপদ আবাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনও এলাকাটিকে আরও নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।