কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লাহিনীপাড়া শুধু একটি গ্রাম নয়, বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এক স্মৃতিভূমি। ‘বিষাদ-সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান এই জনপদে আজও রয়েছে তাঁর বাস্তুভিটা, স্মৃতিচিহ্ন, গ্রন্থাগার, জাদুঘর ও অডিটোরিয়াম। সাহিত্য, ইতিহাস ও গ্রামীণ বাংলার আবহ একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে কুষ্টিয়া ভ্রমণের আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। সরকারি পর্যটন তালিকাতেও মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটাকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধসহ নানা সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন করে নেন। তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সৃষ্টি ‘বিষাদ-সিন্ধু’।

কালের বিবর্তনে মূল বসতবাড়ির অনেক স্মৃতি হারিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে এখানে গড়ে উঠেছে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিসংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগার, জাদুঘর ও অডিটোরিয়াম। এসব স্থাপনায় তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।

লাহিনীপাড়ার আরেকটি আকর্ষণ এর গ্রামীণ পরিবেশ। সাহিত্যিকের জন্মভূমি ঘুরে দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংস্কৃতি ও জনপদের স্বাভাবিক পরিবেশও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

যেভাবে যাবেন

কুষ্টিয়া শহর থেকে লাহিনীপাড়া যাওয়া সহজ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় লাহিনীপাড়া মোড় যাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এগোলেই বাস্তুভিটা। চৌরহাস মোড় ও কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকেও স্থানটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে।

মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এখানে নিয়মিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন হয়। ২০২৪ সালে তাঁর ১৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষেও লাহিনীপাড়ায় দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করা হয়েছিল।