প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কারণে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার সুরক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হাউসবোটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে জরুরি নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি ও শীতকালে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি এ এলাকাকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। হাওরটিতে ১২০টি ছোট-বড় বিল রয়েছে এবং এটি সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত রোববার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার জয়পুর-গোলাবাড়ি এলাকায় সাইনবোর্ডটি স্থাপন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

সাইনবোর্ডে থাকা ডিজিটাল কিউআর কোড স্ক্যান করে পর্যটক ও হাউসবোটসংশ্লিষ্টরা ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ-২০২৫’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। পাশাপাশি হাওরে ভ্রমণের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।

যে ১০ নির্দেশনা মানতে হবে

প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও তা মানার ব্যবস্থা করতে হবে। হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার কিংবা পার্টির আয়োজন করা যাবে না।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপদ পানীয় জলের জন্য হাউসবোটে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখতে হবে।

সব হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী রাখতে হবে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা, প্রতিটি ভ্রমণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আধার।”

তিনি বলেন, পর্যটকদের এমনভাবে ভ্রমণ করতে হবে, যাতে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি না হয়। হাউসবোটসংশ্লিষ্টদেরও পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।