ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন রাজ্য রাজস্থানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পর্যটকের ভ্রমণ রেকর্ড ১০ কোটি ৯২ লাখ ছাড়িয়েছে। ধর্মীয় পর্যটন, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, মরুভূমি, বন্যপ্রাণী ও সাংস্কৃতিক গন্তব্যের বৈচিত্র্য রাজ্যটির পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রাজস্থান পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১০ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ১০১টি পর্যটক ভ্রমণ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় পর্যটকের ভ্রমণ ছিল ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪০৫টি এবং বিদেশি পর্যটকের ভ্রমণ ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৬টি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পর্যটক ভ্রমণ বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে সিকারে। প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্র জয়পুর, উদয়পুর ও জয়সলমেরকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশীয় পর্যটকের ভ্রমণে শীর্ষে উঠে এসেছে জেলাাটি। এ সময়ে সিকারে ১ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৮৭টি দেশীয় পর্যটক ভ্রমণ নিবন্ধিত হয়েছে।

এর পর রয়েছে চিতোরগড়, যেখানে পর্যটক ভ্রমণের সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ১২১। তৃতীয় স্থানে থাকা জয়সলমেরে নিবন্ধিত হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮টি ভ্রমণ। ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ সিকারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিদেশি পর্যটকদের কাছে অবশ্য জয়পুর এখনও রাজস্থানের প্রধান আকর্ষণ। প্রথম ছয় মাসে শহরটিতে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৩টি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর উদয়পুরে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫, যোধপুরে ৮২ হাজার ৮৪৬ এবং জয়সলমেরে ৬৬ হাজার ৪৩৩টি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ হয়েছে।

রাজস্থান পর্যটন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক অজয় শর্মা বলেন, দেশীয় পর্যটকের প্রবৃদ্ধি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বৈচিত্র্যময় পর্যটন অভিজ্ঞতার জনপ্রিয়তাকে তুলে ধরছে, যেখানে ধর্মীয় পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, রাজস্থানের পর্যটন এখন আর শুধু দুর্গ, প্রাসাদ ও মরুভূমিনির্ভর নয়। ধর্মীয় স্থান, বন্যপ্রাণী, ঐতিহাসিক শহর এবং তুলনামূলক কম পরিচিত গন্তব্যেও পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে।