বড় কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজন হলে হোটেলের ভাড়া হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, একসঙ্গে বিপুল চাহিদা তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত হোটেল কক্ষের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লিতে হোটেল ভাড়া দ্রুত বাড়ছে। সম্মেলনের তারিখে কিছু হোটেল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণেরও বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
‘মেইকমাইট্রিপ’-এ ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের হোটেল ভাড়া তুলনা করে দেখা গেছে, মধ্য দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেলে ভাড়া ১২৪ শতাংশ থেকে ৩২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
দিল্লির হায়াত রিজেন্সি নিউ দিল্লিতে একটি কক্ষের সম্মেলনকালীন ভাড়া প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি বা ৮৮৪ ডলার, কর ছাড়া। অথচ পরের সপ্তাহান্তে একই কক্ষের ভাড়া ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৫০০ রুপি বা ২০৬ ডলার। অর্থাৎ সম্মেলনকেন্দ্রিক সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩২৫ শতাংশ। করসহ সম্মেলনের সপ্তাহান্তে একই কক্ষের মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০ ডলার।
ভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে মধ্য দিল্লিতে। এর অন্যতম কারণ, সম্মেলনের ভেন্যু ভারত মণ্ডপম এই এলাকার কাছাকাছি এবং এখানে বিলাসবহুল হোটেলের কক্ষের সরবরাহও তুলনামূলকভাবে সীমিত।
জেএলএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌরব শর্মার মতে, সম্মেলনের তারিখগুলোতে দিল্লির কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিলাসবহুল হোটেল কার্যত পূর্ণ হয়ে গেছে। এসব হোটেলের মধ্যে রয়েছে তাজ প্যালেস, আইটিসি মৌর্য, দ্য ওবেরয়, দ্য ইম্পেরিয়াল এবং দ্য লীলা প্যালেস।
অর্থাৎ ব্রিকস সম্মেলন শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন নয়, এটি দিল্লির হোটেল ব্যবসাতেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। আর সীমিত কক্ষের বিপরীতে একসঙ্গে বিপুল অতিথির চাহিদা তৈরি হওয়ায় হোটেল ভাড়ায় দেখা দিয়েছে এই বড় ধরনের উল্লম্ফন।