কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে পর্যটন খাতে। রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়লেও পরিস্থিতি একরৈখিক নয়। চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডিয়ান ভ্রমণকারীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়লেও তা ২০২৪ সালের তুলনায় এখনও প্রায় ১৫ শতাংশ কম ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতও কানাডিয়ান পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাব অনুভব করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কানাডিয়ান পর্যটন প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের কাছাকাছি পর্যটননির্ভর অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলে কানাডিয়ান পর্যটক কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যটন সংস্থাগুলো তাদের প্রচারণার কৌশল পরিবর্তন করেছে।
অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একই সময়ে কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সামগ্রিক মনোভাবেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধ ভ্রমণকারীদের গন্তব্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডার অভ্যন্তরীণ পর্যটন এবং ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
তবে কানাডা সরকারের সর্বশেষ ভ্রমণ পরামর্শ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে স্বাভাবিক নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও কানাডা সরকার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।