তিন মাসের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন মৌসুমে দীর্ঘ বিরতির পর মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ দিয়ে ৪৮ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে প্রবেশ করেছেন।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য। বন বিভাগের ইকো-ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনায় কলাগাছি ও দোবেকিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বিভিন্ন ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ভ্রমণে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতি অনুসরণ করতে হয়।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকো-ট্যুরিজমের জন্য পাস উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল থেকে আজ বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫টি পাস পারমিটের বিপরীতে ৪৮ জন পর্যটক সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বনে প্রবেশ করেছেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, “সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমরা এসেছি। পাস নিয়ে ইতোমধ্যে সুন্দরবনের ভেতরে যাত্রাও শুরু করেছি।”

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর পাস পাওয়ায় তারা খুশি। ইতোমধ্যে পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, কলাগাছি ও দোবেকি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটকসহ সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এর নদী, খাল, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।