ইতালির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সিসিলির মেসিনা শহরকে সংযুক্তকারী একটি নতুন সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু হতে চলেছে। 
১৫.৬ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি সবুজ সংকেত পেয়েছে এবং এটি ২০৩২-২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর: মিরর।
সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার (২ দশমিক ২ মাইল)। এটি ছয় লেনের ট্রাফিকের পাশাপাশি দুটি রেললাইন বহনের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। দিনে ২০০টি ট্রেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ৬ হাজার যান চলতে পারবে সেতুর ওপর দিয়ে।
‘স্ট্রেইট অব মেসিনা’ নামের সেতুটি এমন এক স্থানে অবস্থিত, যেখানে আফ্রিকা ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেট দুটি মিলিত হয়েছে, যার ফলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত পরিকল্পনা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯০৮ সালে দক্ষিণ ইতালিতে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল মেসিনা প্রণালী। ভূমিকম্পের ঠিক পরপরই একটি বিধ্বংসী সুনামি সৃষ্টি হয়, যা ৪০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছিল।
মেসিনার জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে কমে মাত্র কয়েক শতে নেমে আসে এবং ইতালিতে মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ২ লাখে পৌঁছেছিল।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, "ভূমিকম্পের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেতুটি রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে সক্ষম"।
সেতুটি পারাপারের জন্য চালকদের টোল দিতে হবে। মোটরযানে একবার পারাপারের খরচ প্রতি যাত্রায় প্রায় ৪.১ থেকে ৮.১ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা হবে।
প্রকল্পের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: "উপরোক্ত হারগুলি নিশ্চিত করবে যে কনসেশন মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পের খরচ উঠে আসবে, সেইসাথে সম্পর্কিত অপারেটিং খরচ এবং রুটিন ও অ-রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।"
"একই সাথে, এই সেতুটি সিসিল প্রণালী পারাপারের বর্তমান খরচের তুলনায় অনেক কম টোলে সিসিলি এবং কালাব্রিয়ার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করবে।"