হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে। জনপ্রিয় কৈলাস মানসসরোবর যাত্রাপথ ও পর্যটন এলাকায় এই দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। চীনের তিব্বত অঞ্চলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন শত শত বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।
নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইতালি, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
দুর্যোগকবলিত অঞ্চলটি তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ। গ্রীষ্মকালে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বী বহু তীর্থযাত্রী ও পর্যটক এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করেন। নেপাল থেকে তিব্বতে যাওয়া বিভিন্ন পর্যটন ও ট্রেকিং দলের যাত্রাও এই বন্যায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন। একটি ভারতীয় তীর্থযাত্রী দলের ৭৭ সদস্যও নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পাহাড়ের ওপর থেকে হিমবাহের বড় একটি অংশ ভেঙে উপত্যকায় পড়ার পর ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে দুর্যোগের সঠিক কারণ নির্ধারণে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালে ১১টি দল নিয়ে রাতভর স্থল উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে আটকে পড়াদের সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং এলাকাতেও ভূমিধস ও বন্যায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও স্থলপথ দিয়ে ভ্রমণ আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।