ভ্রমণে এখন শুধু অ্যাডভেঞ্চার বা বিলাসবহুল অভিজ্ঞতাই মূল আকর্ষণ নয়। গবেষণা বলছে, অনেক ভ্রমণকারী এখন স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বদলে দিচ্ছে ভ্রমণ পরিকল্পনা ও গন্তব্য খোঁজার ধরন।
ট্রাভেল গবেষণা প্ল্যাটফর্ম স্কিফটের ‘স্টেট অব ট্রাভেল ২০২৬’ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে ইউরো নিউজের খবরে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ও বিলাসবহুল ভ্রমণের চেয়ে সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ বেশি।
এশিয়ায় ৫০ শতাংশ ভ্রমণকারী স্থানীয় সংস্কৃতিতে মিশে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেখানে অ্যাডভেঞ্চারকে গুরুত্ব দিয়েছেন ৩২ শতাংশ এবং বিলাসবহুল অভিজ্ঞতাকে ৩০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় এ হার ৪২ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ৩৯ শতাংশ এবং ইউরোপে ৩৬ শতাংশ।
ভ্রমণকারীদের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও খাবারের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে এগিয়ে। জরিপে ৭১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় খাবার ও রন্ধনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতায় খরচ করতে আগ্রহী। অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিতে ৪৮ শতাংশ, শিল্প-সংস্কৃতি ও ইতিহাসে ৪২ শতাংশ, বিনোদনে ৩৬ শতাংশ এবং খেলাধুলায় ২৪ শতাংশ খরচ করতে আগ্রহী।
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালকে বলা হয়েছে ‘ইন্টেলিজেন্সের বছর’। বিশ্বের ৬২ শতাংশ ভ্রমণকারী এআইভিত্তিক ট্রাভেল প্ল্যানিং টুল সম্পর্কে পরিচিত। এসব টুল সম্পর্কে জানা উচ্চ আয়ের ভ্রমণকারীদের ৮১ শতাংশই ভ্রমণ পরিকল্পনায় এগুলো ব্যবহার করেছেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু ভ্রমণের অনুপ্রেরণার জায়গা নয়; এটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার মাধ্যমেও পরিণত হচ্ছে। ৬৩ শতাংশ ভ্রমণকারী গন্তব্যের ধারণা পেতে, ৫৬ শতাংশ অভিজ্ঞতা, রেস্তোরাঁ ও করণীয় খুঁজতে এবং ৪৫ শতাংশ হোটেল ও আবাসনের তুলনা করতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন।
তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ভাইরাল কোনো ভিডিও অল্প পরিচিত গন্তব্যকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলতে পারে, আবার কয়েক মাসের মধ্যেই সেটিকে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে ফেলতে পারে। ফলে অনেক ভ্রমণকারী এখন পরিচিত ভিড়ভাট্টার গন্তব্যের পরিবর্তে কম পরিচিত, সাশ্রয়ী এবং স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতার জায়গা খুঁজছেন।