উত্তর সিকিমের পাহাড়ি পথে গ্যাংটক থেকে এগোলে সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সাদা ফেনার জলধারা চোখে পড়বে। একসঙ্গে কয়েকটি ধারায় পাহাড় বেয়ে নামা এই জলপ্রপাতই সিকিমের পরিচিত সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত। উত্তর সিকিমের পথে যাওয়া পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয় একটি বিরতিস্থল।

গ্যাংটক থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে উত্তর সিকিমগামী সড়কের পাশে জলপ্রপাতটির অবস্থান। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের জন্য এখানে জলপ্রপাত দেখার ব্যবস্থা ও একটি দেখার ছাউনি রয়েছে। দীর্ঘ ট্রেক ছাড়াই সড়কপথ থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কেন নাম সেভেন সিস্টার্স

পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে পাশাপাশি কয়েকটি জলধারা নেমে আসায় জলপ্রপাতটির এমন নাম। ভারতের সরকারি পর্যটন পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, নিচ থেকে সাতটি ধারার মধ্যে চারটি দেখা যায়, আর বাকি তিনটি ওপরের দিকে অবস্থান করে। সিকিমের সরকারি পর্যটন পরিকল্পনাতেও জলপ্রপাতটির পানির গতিপথে সাতটি বাঁক বা ধাপের উল্লেখ রয়েছে।

বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে জলপ্রপাতটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। গাঢ় সবুজ পাহাড়, মেঘ, কুয়াশা এবং প্রবল জলধারা মিলে তৈরি করে মনোরম দৃশ্য। সরকারি পর্যটন নথিতে জলপ্রপাতের নিচে রংধনু তৈরির দৃশ্যেরও উল্লেখ রয়েছে।

কখন যাবেন

জলপ্রপাতের প্রবাহ সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে বর্ষায়। তবে এ সময় সিকিমের পাহাড়ি রাস্তায় ভারী বৃষ্টি, পিচ্ছিল পথ ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকতে পারে। যারা তুলনামূলক স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা বর্ষা শেষে যেতে পারেন। এ সময় পাহাড়ে সবুজের আবহ থাকে এবং অতিবৃষ্টিজনিত ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।

গ্যাংটক জেলা প্রশাসনের পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, দর্শনের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা। প্রবেশমূল্য নেই। তবে আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।

কীভাবে যাবেন

সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত গ্যাংটক থেকে উত্তর সিকিমের পথে যাওয়ার সড়কের পাশে। বিমানে এলে পাকিয়ং বিমানবন্দর ব্যবহার করা যায়। বিমানসংযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক পর্যটক পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরও ব্যবহার করেন। গ্যাংটক থেকে বাগডোগরার দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এবং পাকিয়ং বিমানবন্দর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।

রেলপথে এলে নিকটবর্তী বড় রেলস্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে সড়কপথে গ্যাংটক হয়ে জলপ্রপাতের দিকে যাওয়া যায়।

ভ্রমণে যা মনে রাখবেন

পাহাড়ি আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে। বর্ষায় রেইনকোট বা ছাতা, হালকা গরম পোশাক এবং ভালো গ্রিপের জুতা রাখা সুবিধাজনক। জলপ্রপাতের কাছে ভেজা পাথর, ঢাল বা স্রোতের একেবারে কাছে গিয়ে ছবি তোলা এড়িয়ে চলা উচিত। উত্তর সিকিমের পথে যাত্রার আগে সড়ক ও আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতিও জেনে নেওয়া ভালো।

এক নজরে

স্থান: সিকিম, ভারত
গ্যাংটক থেকে দূরত্ব: প্রায় ৩২ কিলোমিটার
অবস্থান: উত্তর সিকিমের পথে
দর্শন সময়: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা
প্রবেশমূল্য: সরকারি তথ্য অনুযায়ী নেই
নিকটবর্তী বিমানবন্দর: পাকিয়ং ও বাগডোগরা
নিকটবর্তী রেলস্টেশন: নিউ জলপাইগুড়ি