ট্রেনে যাত্রার সময় খাবার, ফল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের রেলে এমন একটি সাধারণ জিনিস রয়েছে, যা দেখতে নিরীহ হলেও নিরাপত্তার কারণে বহনে বিধিনিষেধ আছে। সেটি হলো শুকনো নারকেল, বিশেষ করে আঁশ বা খোসাসহ শুকনো নারকেল, যাকে সাধারণত ‘কোপরা’ বলা হয়।
ভারতীয় রেলের নিরাপত্তাবিধিতে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন দাহ্য সামগ্রী বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। রেলের নথিতে সহজে দাহ্য বা আগুনে অবদান রাখতে পারে এমন পদার্থকে দাহ্য কঠিন পদার্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আগুনের ঝুঁকিই মূল কারণ
শুকনো নারকেলের সমস্যা নারকেলের ভেতরের অংশে নয়, মূলত এর শুকনো আঁশযুক্ত বাইরের অংশে। এই শুকনো তন্তু আগুনের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জ্বলতে পারে। ফলে কোনো আগুনের ফুলকি বা জ্বলন্ত উৎসের সংস্পর্শে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক ভ্রমণবিষয়ক প্রতিবেদনগুলোতেও ভারতীয় রেলে শুকনো নারকেল বহনে এই অগ্নিঝুঁকির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রেনের কামরা সাধারণত সীমিত জায়গা এবং সেখানে একই সঙ্গে অনেক যাত্রী ও লাগেজ থাকে। ফলে আগুনের সূত্রপাত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলন্ত ট্রেনে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাও তুলনামূলক কঠিন।
তাজা নারকেল আর শুকনো নারকেল এক নয়
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাজা নারকেল এবং আঁশসহ শুকনো নারকেলকে একইভাবে দেখা হয় না। নিষেধাজ্ঞার আলোচনায় মূলত শুকনো, আঁশযুক্ত নারকেল বা কোপরার কথাই বলা হচ্ছে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন আরও বিভিন্ন সামগ্রী বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার, কেরোসিন, আতশবাজি, বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ এর মধ্যে রয়েছে। রেলের বিধিতে দাহ্য কঠিন পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নিয়ম ভাঙলে শাস্তির ঝুঁকি
নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে রেল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা বা কারাদণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ট্রেনে ওঠার আগে লাগেজে থাকা সামগ্রী সম্পর্কে রেলের নিয়ম জেনে নেওয়া নিরাপদ।