দেশের পর্যটন খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে এ খাতের অবদান বর্তমান ২ থেকে ৩ শতাংশ থেকে ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ উদ্বোধনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এসব কথা বলেন। মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
মন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে পর্যটন খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পর্যটননীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় আনার কাজ চলছে। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, কুয়াকাটা, পাহাড়ি অঞ্চল, সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে পর্যটনের বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি স্টলে হোটেল, রিসোর্ট, ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংস্থা ও বিদেশি মিশন পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরছে। মেলায় পর্যটন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক পর্যটন সহযোগিতার সুযোগও তুলে ধরা হচ্ছে।