বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ ভ্রমণ আরও সহজ হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও মালদ্বীপের রাজধানী মালের মধ্যে সপ্তাহে সাতটি সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করছে। এর ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়ল।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান সপ্তাহে দুটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস পাঁচটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় প্রতিদিনই মালদ্বীপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ চলাচলের সূচিতেও ঢাকা-মালে পথে দুই সংস্থার মোট সাতটি সাপ্তাহিক সরাসরি ফ্লাইট দেখানো হয়েছে।

শিউনিন রশীদ বলেন, ভালো পর্যটন গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ থেকে এখন মালদ্বীপ ভ্রমণ বেশ সুবিধাজনক।

মালদ্বীপকে শুধু বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি। বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের পাশাপাশি সাফারি নৌযান এবং স্থানীয় দ্বীপের অতিথিশালাতেও থাকার সুযোগ রয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে এসব অতিথিশালায় থেকে স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপে আগমনের পর পর্যটন ভিসা দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। অর্থাৎ আগে থেকে ভিসার অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভ্রমণের আগে বৈধ পাসপোর্ট, ফেরার টিকিট, অনুমোদিত আবাসনের বুকিং ও অন্যান্য প্রবেশ-শর্ত পূরণ করতে হয়। আগমনের আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্রমণ ঘোষণা জমা দেওয়ার নিয়মও রয়েছে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বর্তমানে মালদ্বীপে পর্যটক আগমনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশি পর্যটনবাজারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে মালদ্বীপ।

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে মালদ্বীপের অংশগ্রহণ জোরদারে দেশটির বেসরকারি ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান জাহা ট্রাভেলসের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ঢাকায় বসেই বাংলাদেশি পর্যটকেরা মালদ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

মধুচন্দ্রিমা, পারিবারিক ছুটি, অ্যাডভেঞ্চার ও স্বল্পমেয়াদি অবকাশসহ বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার।